ওঙ্কার ডেস্ক : কোয়েট্টায় ফের রক্তাক্ত বিস্ফোরণ। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী শহরের অতি সুরক্ষিত এলাকায় ঘটে গেল ভয়াবহ এই ঘটনা। রবিবার সন্ধেয় আধাসামরিক বাহিনীর সদর দফতরের বাইরে একটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত বহু। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও তার শব্দ শোনা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জোরালো শব্দে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে আশপাশের বাড়িঘরের কাচ। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান বহু মানুষ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং উদ্ধারকর্মীরা। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই বিস্ফোরণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। কোয়েট্টা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে আধাসামরিক বাহিনীর দ্বারা, চালানো হচ্ছে তল্লাশি অভিযান। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আধাসামরিক বাহিনীর সদর দফতরকে নিশানা করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ঠিক কারা এর পিছনে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কোয়েট্টা বহুদিন ধরেই জঙ্গি হামলার জন্য কুখ্যাত। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু করে এই সীমান্তবর্তী শহরকে। রবিবারের ঘটনার পর ফের একবার পাকিস্তানের সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নিহতদের পরিবারকে শোকবার্তা জানিয়েছে প্রশাসন। আহতদের চিকিৎসার খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবুও গোটা পাকিস্তান জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
