ওঙ্কার ডেস্ক: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কাতারে ইজরায়েলি হামলা নিয়ে পাকিস্তান ও ইজরায়েলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ জড়িতে পরে। ৯/১১ হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে ইজরায়েলের স্থায়ী প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন সরাসরি পাকিস্তানকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছে। ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
ড্যাননের অভিযোগ, পাকিস্তান শুধু সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়ই দেয়নি, বরং তাদের কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তাও করেছে। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকেও জবাদিহি করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় একক মানদণ্ডে সকল দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া।
এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিকার আহমেদ। তিনি কাতারে হামলাকে অবৈধ ও উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে পাল্টা অভিযোগ তুলে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইন বারবার লঙ্ঘন করছে ইজরায়েল নিজেই। বিশেষ করে গাজায় নিরীহ মানুষের উপর যে নৃশংসতা চালানো হচ্ছে, সেটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তিনি আরও দাবি করেন, শুধু গাজাই নয়, সিরিয়া, লেবানন, ইরান, ইয়েমেন বহু জায়গায় ইজরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের নজির রয়েছে। পাকিস্তানি প্রতিনিধির কথায়, ইজরায়েলের এই দ্বিচারিতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট, এবং সন্ত্রাসবাদের নাম করে তারা আসলে নিজেদের সামরিক অভিযানকে বৈধতা দিতে চাইছে।
কাতারে হামলার ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, মধ্য এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদকেই নিশানা করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে, অথচ কাতার ইজরায়েল এবং প্যালেস্টাইনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ হওয়ায় এই ঘটনাকে অযৌক্তিক ও বিপজ্জনক হিসেবে দেখছে বহু দেশ। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বৈঠকে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়েছে ইজরায়েল ও পাকিস্তান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বাকযুদ্ধ আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নামে গড়ে উঠছে নতুন রাজনৈতিক বিভাজন।
