ওঙ্কার ডেস্ক: গাজার উপর ধারাবাহিক ভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়লি সেনা। তাদের হামলা থেকে রেহায় পাচ্ছে না স্কুল, হাসপাতাল থেকে শুরু করে গৃহহীন দের রিলিফ ক্যাম্প। ইজরায়েল সরকারের মতে হামাস এইসব জায়গায় ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে। তাদের সম্পুর্ণ ভাবে নির্মূল করতে যদি গাজার সাধারণ মানুষ, ছোট্ট বাচ্ছা, চিকিৎসাধীন রোগীর প্রাণ যায় তাতে খুব একটা কিছু যায় আসে না তাদের।
গাজায় হামাসবিরোধী অভিযানে দিন দিন আরও তীব্রতা বারাছে ইজরায়েল। রবিবার সকাল থেকে একাধিক এলাকায় ধারাবাহিক বিমান ও কামান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। গাজা শহরের বহুতল ভবনগুলিকে নিশানা করে বোমা বর্ষণ করার পাশাপাশি এক পরিত্যক্ত স্কুল এবং আল-ওয়াফা হাসপাতালের অদূরে আশ্রয়হীন মানুষের তাঁবুর কাছেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল থেকে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
তেল আভিভের দাবি, হামাসই যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিদোন সার রবিবার ফের স্পষ্ট জানান, হামাস যদি পণবন্দিদের মুক্তি দেয় এবং অস্ত্র ফেলে দেয়, তবেই গাজায় সংঘর্ষ থামবে। তাঁর কথায়, “এই শর্ত মানলে আগামীকালই যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে”।
অন্যদিকে হামাস নিজেদের অবস্থানও জানিয়ে দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, ইজরায়েলকে গাজা থেকে সেনা সরাতে হবে এবং হামলা বন্ধ করতে হবে। তবেই তারা পণবন্দিদের মুক্তি দেবে। গত শনিবারও একই বার্তা দিয়েছিল হামাস। পাল্টা ইজরায়েলি বাহিনী জানিয়েছিল, গাজা শহরের বহুতল ও আশপাশের এলাকায় হামাস ডেরা বানিয়ে রেখেছে, তাই সেগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ওই সব এলাকা ছেড়ে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসিতে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই এলাকা সম্পুর্ণ ভাবে নিরাপদ নয় এ কথা আগেও প্রমান হয়ে গেছে।
ইজরায়েলি সেনার দাবি, আল-মাওয়াসিকে ‘মানবিক অঞ্চল’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে পানীয় জল, খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবে ওই অঞ্চল কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।
গত সপ্তাহের শুরুতেই গাজার প্রায় ৪০ শতাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল ইজরায়েল। বহুতল ভবনগুলির উপরের অংশ থেকে হামাসের নজরদারি চালানোর অভিযোগ তুলেছে তারা। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হাজার হাজার সাধারণ গাজাবাসী উদ্বাস্তু জীবনে ঠাঁই নিচ্ছেন, তবুও সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে না।
