ওঙ্কার ডেস্ক: বছরের বিভিন্ন সময়ে দূষণে জেরবার হয়ে থাকেন দিল্লিবাসী। বিশেষ করে শীতকালে বায়ু দূষণের তীব্রতা বাড়ে। যার ফলে দুর্ভোগে পড়েন বয়স্ক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে নতুন প্রস্তাব এনেছে দিল্লির বিজেপি শাসিত সরকার। ২০২৬-২০৩০ সালের জন্য খসড়া বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি প্রকাশ করেছে দিল্লি সরকার। যেখানে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে উৎসাহিত করতে একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রোল চালিত যানবাহনের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং চার্জিং পরিকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
পরিবহন দফতরের বৈদ্যুতিক যানবাহন বিভাগের তরফে জারি করা এই খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করার আগে নাগরিক এবং বিশেষজ্ঞদের মত চাওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ দিন এ বিষয়ে মতামত জানানো যাবে। সরকারি এক কর্তার কথায়, এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হল শহরের বায়ু দূষণ কমাতে যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমন কমানো। খসড়া প্রস্তাবটিতে পেট্রোল চালিত যানবাহন থেকে সরে আসার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারী, ২০২৭ থেকে দিল্লিতে কেবল নতুন বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানকে নিবন্ধনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে। তার পর দুই চাকার যানবাহনের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম অনুসরণ করা হবে। বলা হয়েছে, ১ এপ্রিল, ২০২৮ থেকে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক দু চাকার গাড়িকে অনুমতি দেওয়া হবে। শহরের রাস্তা থেকে জ্বালানিযুক্ত ইঞ্জিনের গাড়ি ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি দিল্লি সরকারের।
বায়ু দূষণ কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে গ্রহণ করা এই নীতির উদ্দেশ্য হল দিল্লিজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানো। সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদ, ১৯৮৬ সালের পরিবেশ সুরক্ষা আইন, ১৯৮৮ সালের মোটরযান আইন এবং এমসি মেহতা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এই প্রস্তাবের অনুকূলে। পরিবেশবিদদের একাংশ দিল্লি সরকারের এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। এর ফলে শহরে দূষণ অনেকটা কমবে বলে মত তাঁদের।