ওঙ্কার ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন ক্রমশ বাড়ছে, সেই আবহেই বড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ। নন্দীগ্রাম এলাকার ৪৩ জন তৃণমূল নেতা ও কর্মীর উদ্দেশে নোটিস জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই নোটিস অতীতে নন্দীগ্রামে ঘটে যাওয়া একটি বিস্ফোরণ ও সহিংসতার মামলার তদন্তের সূত্রেই পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন এমন কিছু ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতেই এই তলব বলে জানা গিয়েছে।
এনআইএ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলেই মনে করছে সংস্থা। পাশাপাশি, তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটের মুখে পরিকল্পিতভাবে এই নোটিস পাঠিয়ে রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
অন্যদিকে, পদ্মফুল শিবির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলছে। তদন্তকারী সংস্থা যদি কোনও ঘটনার তদন্তে কাউকে তলব করে, তা সম্পূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই পড়ে। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক টানা ঠিক নয় বলেই তাঁদের মত।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতেও এই এলাকায় একাধিকবার সংঘর্ষ, অশান্তি এবং রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। ফলে নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই এই কেন্দ্রকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। তারই মধ্যে এনআইএ-র এই পদক্ষেপ নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।