ওঙ্কার ডেস্ক: পায়রাকে খাওয়ালে গুনতে হবে জরিমানা। হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন। এমনই বিধি রয়েছে সিঙ্গাপুর, চিন, হংকং, জার্মানি-সহ বিশ্বের একাধিক দেশে। তবে এর নেপথ্যে রয়েছে গুরুতর একটি কারণ। পায়রার বিষ্ঠা থেকে রোগ ছড়ানো রুখতে এই পদপক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়রার বিষ্ঠা থেকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়। মূলত বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে সমস্যা তৈরি করে। পায়রার বিষ্ঠা থেকে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক যে রোগটি ছড়ায় তা হল ‘হাইপারসেনসিটিভিটি নিউমোনাইটিস’। একে অনেক সময় ‘বার্ড ফ্যান্সিয়ার্স লাং’ বলা হয়। পায়রার শুকনো বিষ্ঠা ও পালকের ধুলো ফুসফুসে প্রবেশ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। স্থায়ী ভাবে ফুসফুসের কোষের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও পায়রার বিষ্ঠা থেকে যে রোগ ছড়ায় সেই তালিকায় রয়েছেহিস্টোপ্লাজমোসিস (এক ধরনের ছত্রাকঘটিত রোগ),
ক্রিপ্টোকোকোসিস (সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা ফুসফুস আক্রান্ত হয়)। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ সর্দি-কাশির মতো হলেও শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং বুকে টান অনুভব হয়। রোগীর ওজন কমে যায় অস্বাভাবিক ভাবে বহু ক্ষেত্রে। সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে
চিকিৎসকরা পাখি বা বিষ্ঠার সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে বলেন। খোলা জায়গায় পায়রাকে খাবার দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
সিঙ্গাপুরে পায়রাকে খাওয়ানো নিষিদ্ধ হলেও সরকারি বিধি উপেক্ষা করে সম্প্রতি পায়রার দলকে খাইয়েছিলেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা। ফলে তাঁকে আদালত ৩,২০০ সিঙ্গাপুরি ডলার জরিমানা করেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যা ২ লক্ষ টাকার বেশি।
