একলা হলুদ পাখি
প্রদীপ কুমার আচার্য্য
আমি কালকে যে হলুদ পাখিটাকে
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকতে দেখেছিলাম
আজকেও সে ঠিক একই জায়গায়,
একদম একই রকম শুনশান বসে আছে।
তার চঞ্চল চোখ আর আকর্ণ ঠোঁট
আমাকে ভাবায় নীরব সময়ের মুখোমুখি।
শুধুই কি আবেদন? অথবা অভিসন্ধি?
তীব্র ক্ষোভ? না কি শুধুই ঘৃণা?
বুঝতে গেলে পালকের নিচে মুখ গুঁজে
টুপটাপ বৃষ্টিতে ভেজা খুব দরকার।
ঠিক যেমন গাছের কথা বা ফুলের ভাষা
বুঝতে.. চাই নিশ্চুপ গাঢ় অন্ধকারে
একান্ত নিজস্বতা কে ছুঁয়ে থাকা।
ঝড় বাদলে ঘন জঙ্গলে আমি
অনেক হেঁটেছি, আর দেখেছি
গাছেরা কেমন হুমড়ি খেয়ে একে
অন্যের গায়ে জড়িয়ে যায় ,
কিন্তু হলুদ পাখিটা?
সেই একই রকম, গতানুগতিক।
মানুষ নামের অবনত গম্বুজ, গালিচা পেতে যখন নষ্টামি কুড়োয়
তখন আস্ত একটা উজ্জ্বল দিন লুটিয়ে
পড়ে সন্ধ্যার অথৈ অন্ধকারে।
সবুজ পাতা আর সাদা ফুলের
মাঝখানে হলুদ পাখিটার বাহারি
রুপের সাজ লাবণ্য বাড়ায় কিন্তু
একক পাখিটা যখন পালক ভেজায়?
আমি শুধু ওর ডানার কথা ভাবি।
ফুড়ুৎ করে উড়লে ই.. আকাশ, বাতাস দেশ দেশান্তর
মুক্ত বিহঙ্গ।
তবে কেন বাপু, বৃষ্টিতে মেঘলা আকাশকে ভয়?
হাত বাড়ালে তবেই কি শুধু উড়তে ইচ্ছে করে?
আমি কান পাতলে শুনতে পাই , আকাশে
ঘন মেঘের বর্ষারাও ভালবাসে নিজেকে,
আর হলুদ পাখিটা!ওর সাথে তো আরো অনেক বন্ধুদের আসার কথা ছিল।
একটু আধটু গুঞ্জরণে মিশে থেকে,
জীবনের স্বাদ নিয়ে শিশিরের শব্দে
অনুভূতির উচ্ছাস ঢেলে নিলে কি আর
এমন ক্ষতি! ফুলঝুরি আনন্দ যখন আকছার
ছড়িয়ে আছে মুঠো মুঠো কুড়িয়ে নিলে
আহ কি ঝর ঝরে ফর্সা জীবন।