
মানস চৌধুরী ও প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা : রাজ্যে ফের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত তৃণমূল কর্মী । সাত সকালে কামারহাটি পৌরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বেলঘরিয়া রাজীব নগর এলাকায় উদ্বার হয় তৃণমূল কর্মী এনায়েতুল্লাহ ওরফে রেহান খানের রক্তাক্ত মৃতদেহ। বয়স ৩৮ বছর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশেই মঙ্গলবার গভীর রাতে খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করা হয়। সেই সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে সন্দেহ পুলিশের। সকালে উঠে তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। তারপরই তড়িঘড়ি সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বেলঘরিয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী উপস্থিত হয়।

পুলিশ জানায় রেহান এলাকায় শাসক দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় প্রোমোটারী করতেন। তবে খুনের রাতে মদের আসরে রেহানের সঙ্গে আর কারা উপস্থিত ছিল তার তদন্ত করছে পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। তবে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় চলছে পুলিশ পিকেটিং। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা প্রোমোটারী ও জমির দালালী সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মত বিরোধের জেরেই এই খুন। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে বেলঘরিয়া থানার পুলিশ।
মৃতের পরিবারের দাবি, রেহানকে খুনের নেপথ্যে হাত রয়েছে সুশান্ত নামে তৃণমূলেরই এক কর্মীর। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই রেহানের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিবাদ ছিল সুশান্তের। ছ’মাস আগে রেহানের মাথায় বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগে গ্রেফতারও হয়েছিলেন সুশান্ত। সেই ঘটনার ছ’মাসের মাথায় খুন হতে হল রেহানকে। খবর পেয়ে পৌঁছোন এলাকার কাউন্সিলর দেবযানীও। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তদন্তের পর জানা যাবে কারা খুন করেছেন। দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক।’’
বেলঘরিয়ায় তৃণমূল কর্মী খুন কান্ডে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে ঘটনার রাতের সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিশ জানিয়েছে, রেহানকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাস্তায় দেখা গেছে। বাড়ির পাশেই গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপান করছিলেন বলে পুলিশের অনুমান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, এরপরই পিছন থেকে তাঁকে গুলি করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে ফুটে উঠেছে রাতের ঘটনা- সাদা জামা পরে রেহান হাঁটছেন, তার পিছনেই বন্ধু-বান্ধব এবং সঙ্গীরা। এরপরই গুলি লাগে এবং ঋজু ও বাবলুকে পালাতে দেখা যায়। ঘটনার পর থেকে পলাতক তাঁরা। গোটা এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।