আকারে ছোট, দেখতে ভারী সুন্দর আর ফুল ফোটে একেবারে ঝাঁকে ঝাঁকে! বাগান কিংবা ছাদবাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে পমপম ফুলের জুড়ি মেলা ভার। ছোট ছোট গোলাকার ফুলে গাছ ভরে গেলে মনে হয় যেন সবুজ পাতার মাঝে রঙিন বলের সমাহার। অল্প জায়গাতেই এই গাছ সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে। তবে সঠিক সময়ে লাগানো এবং নিয়ম মেনে পরিচর্যা করলেই গাছে প্রচুর ফুল পাওয়া সম্ভব।
কখন পমপম ফুল গাছ লাগাবেন?
পমপম ফুলের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় সাধারণত বর্ষার শেষ থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে চারা লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে জাত ও স্থানীয় আবহাওয়া অনুযায়ী সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। ভালোভাবে বেড়ে ওঠা সুস্থ চারা নির্বাচন করুন।
কেমন মাটি ও টব প্রয়োজন?
এই গাছের জন্য ঝুরঝুরে, জলনিকাশি ভালো এমন মাটি দরকার। বাগানের মাটির সঙ্গে পরিমাণমতো গোবর সার বা ভার্মিকম্পোস্ট, কোকোপিট এবং বালি মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে পারেন। মাঝারি আকারের টব ব্যবহার করুন। অবশ্যই টবের নিচে জল বেরোনোর ছিদ্র থাকতে হবে। গাছের গোড়ায় যেন জল জমে না থাকে।
কীভাবে করবেন গাছের পরিচর্যা?
পমপম ফুল গাছ ভালো রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৪-৬ ঘণ্টা রোদ পাওয়ার ব্যবস্থা করুন। মাটির উপরের স্তর শুকিয়ে এলে জল দিন। অতিরিক্ত জল দেবেন না। গাছের শুকনো পাতা ও মরা ফুল নিয়মিত তুলে ফেলুন। এতে নতুন ডাল বের হবে এবং গাছ ঝোপালো হবে।
প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর অল্প পরিমাণ ভার্মিকম্পোস্ট বা জৈব সার দিতে পারেন। গাছের বৃদ্ধি ভালো হলে হালকা ডাল ছাঁটাই করলে নতুন শাখা তৈরি হয়।
কীভাবে পাবেন ঝাঁকে ঝাঁকে ফুল?
প্রচুর ফুল পাওয়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো পর্যাপ্ত রোদ, সঠিক জল এবং নিয়মিত জৈব সার প্রয়োগ। গাছের ডগা সামান্য ছেঁটে দিলে পার্শ্বশাখা বাড়তে সাহায্য করে। ফুল শুকিয়ে গেলে তা তুলে দিন। পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে নিমতেল মিশ্রিত জল ব্যবহার করতে পারেন।
মনে রাখবেন, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার দিলে পাতা বেশি হতে পারে, কিন্তু ফুল কম আসতে পারে। তাই সুষম সার ব্যবহার করুন।
সামান্য যত্ন আর ভালোবাসা পেলেই পমপম ফুল গাছ ভরে উঠবে অসংখ্য রঙিন ফুলে। আপনার ছাদ, বারান্দা কিংবা বাগান হয়ে উঠবে আরও সুন্দর ও প্রাণবন্ত।