ওঙ্কার ডেস্ক: রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’ অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্কের আবহে এবার মুখ খুললেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। কংগ্রেস নেতার এই অভিযোগকে তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে না দিয়ে বরং গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হলে নির্বাচন কমিশনের উচিত স্বচ্ছতার সঙ্গে তার জবাব দেওয়া।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাহুল গান্ধী অভিযোগ তুলেছেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার তালিকা পরিবর্তন, ভোট গণনায় কারচুপি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গোপন হস্তক্ষেপ হচ্ছে। তিনি এই ঘটনাকে ‘ভোট চুরি’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা হারিয়েছে। এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
এই প্রেক্ষিতে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে নিছক হাস্যকর ভেবে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। যদি দেশের মানুষ ভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সেটা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা।” তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও আস্থা বজায় রাখা জরুরি। যদি কেউ অভিযোগ তোলে, সেটার যুক্তিযুক্ত জবাব দিতে হবে, তবেই মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব।” যদিও তিনি সরাসরি কংগ্রেস বা রাহুল গান্ধীর পক্ষ নেননি, তবু তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে, বিরোধী দলের উদ্বেগ সম্পূর্ণ অমূলক নয়। প্রশান্ত কিশোরের মতে, নির্বাচন কমিশনের উচিত নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সামনে এনে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। শুধু নোটিশ বা বিবৃতি নয়, তদন্তের অগ্রগতি ও প্রক্রিয়াও প্রকাশ্যে আনতে হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলি একজোট হয়ে রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছে। বহু আঞ্চলিক দলও বলেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা ভোটার তালিকায় ‘অস্বাভাবিক পরিবর্তন’ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি ও এনডিএ নেতারা এই অভিযোগকে রাজনৈতিক নাটক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধী নির্বাচনী ময়দানে হারের আশঙ্কায় ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।
বিহারের ভোটপর্বের মাঝেই এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রথম দফার ভোটের পর যখন ফলাফলের পূর্বাভাস নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে, তখন এই ‘ভোট চুরি’ ইস্যু রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
