ওঙ্কার ডেস্ক: ব্রিটেনের রাজপরিবার আবার খবরের শীর্ষে। রাজা চার্লস তৃতীয় তাঁর ভাই রাজপুত্র অ্যান্ড্রু-কে সমস্ত রাজকীয় খেতাব, পদ ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন। জেফ্রি এপস্টিন যৌন কেলেঙ্কারি ঘিরে অ্যান্ড্রুর নাম জড়ানোর পর থেকেই বিতর্কের ঝড় ওঠে ব্রিটেনজুড়ে। অবশেষে রাজা চার্লস সিদ্ধান্ত নেন রাজপরিবারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার।
রাজপ্রাসাদ সূত্রে জানা গেছে, অ্যান্ড্রু এবার থেকে আর “প্রিন্স” খেতাব ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁর ‘ডিউক অফ ইয়র্ক’, ‘অ্যারল অফ ইনভারনেস’ এবং ‘ব্যারন কিলিলি’ উপাধিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে রয়্যাল লজ রাজপ্রাসাদ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রয়্যাল লজ রাজপ্রাসাদ বহু বছর ধরে তাঁর ব্যক্তিগত আবাসন ছিল, এখন রাজপরিবারের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যৌন হেনস্থা ও নির্যাতনের শিকারদের প্রতি সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা চার্লস বিশ্বাস করেন, “রাজপরিবারের সদস্যদের আচরণ এমন হওয়া উচিত যা জনমানসে সম্মান বজায় রাখে।”
অ্যান্ড্রু অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি বারবার অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধুমাত্র দেখনমূলক ছিল, অপরাধমূলক কিছু নয়। কিন্তু জনমতের চাপ এবং রাজপরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় রাজা চার্লস এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। সংবাদ সুত্রের খবর অনুযায়ী, নতুনভাবে, অ্যান্ড্রু এখন থেকে পরিচিত হবেন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর নামে। এখন থেকে তিনি রাজকীয় উপাধি ছাড়াই সাধারণ নাম ব্যবহার করেবেন। রাজনীতি ও সমাজে এই সিদ্ধান্তকে রাজা চার্লসের দৃঢ়তার প্রতীক বলা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টিন ছিলেন মার্কিন এক ধনকুবের ও অর্থবিশেষজ্ঞ। যার নাম উঠে আসে নাবালিকা মেয়েদের পাচার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে। রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি ও রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ২০১৯ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও বিচার শুরু হওয়ার আগেই তিনি কারাগারে রহস্যজনকভাবে মারা যান। তাঁর এই কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রুর নামও জড়িয়ে পড়ে। শুধুমাত্র রাজপুত্র অ্যান্ড্রু নন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে ধনকুবের ইলন মাস্ক, প্রয়াত গায়ক মাইকেল জ্যাকসন বহু স্বনামধন্য মানুষের নাম আসে এপস্টিনের তালিকায়।
এপস্টিন-কাণ্ডের পর থেকেই প্রিন্স অ্যান্ড্রু রাজদায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের পর থেকে তিনি কোনও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে রাজপরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে হাজির হননি। কিন্তু এবার তাঁর বিরুদ্ধে রাজপ্রাসাদের দরজাও বন্ধ হয়ে গেছে।
