ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, শহরের একটি অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটকে আড়াল করে দেহব্যবসার চক্র চালানো হচ্ছিল। সেই ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে বিজেপি নেত্রী শালিনী যাদবের স্বামীর নামে, যা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা এবং বিতর্ক। পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঘটনা প্রকাশ্যে আনে এবং সেখান থেকেই আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফ্ল্যাটটি মূলত ভাড়ায় দেওয়া ছিল এবং সেখানে একপ্রকার স্পা ও ওয়েলনেস পরিষেবার মুখোশে অবৈধ কার্যকলাপ চালানো হতো। নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জেলায় থাকা একাধিক তরুণীকে সেখানে আনা হতো এবং নির্দিষ্ট সংযোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করানো হত। অভিযানের সময় পুলিশ কিছু নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, রেজিস্টার এবং পরিচয় সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করেছে।
অভিযানের সূত্রপাত হয় একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে। টানা নজরদারির পর প্রশাসন রাতে হানা দেয় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজনকে আটক করে। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্ল্যাটটির দখল নিশ্চিত করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া কল রেকর্ড ও নথি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। কারা নিয়মিত এই পরিষেবা নিতেন, কারা পরিচালনার মূল ব্যক্তি তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার পরেই শালিনী যাদব মুখ খুলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই ফ্ল্যাট তাঁদের হলেও সেখানে কী ঘটত তা সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা ছিল না। ফ্ল্যাটটি ভাড়ায় দেওয়া ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর নাম ব্যবহার করে বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে।
তবে প্রশাসনের দাবি, তিনজন মহিলা এবং কয়েকজন পুরুষকে আটক করার পর যে পরিস্থিতি উঠে এসেছে তা বেশ গুরুতর। দেহব্যবসা ছাড়াও মানব পাচারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষত কারা এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত এবং দীর্ঘদিন ধরে কোন কোন জায়গা থেকে মেয়েদের নিয়ে আসা হত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
ঘটনার পর বারাণসীতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট। বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে, ক্ষমতার আড়ালে অবৈধ চক্র চালানোর সুযোগ কে বা কারা দেয়। অপরদিকে শাসক শিবিরের দাবি, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে এবং তাতে সবকিছু পরিষ্কার হবে।
