ওঙ্কার ডেস্ক : ডিজিটাল জালিয়াতিতে পড়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো মহারাষ্ট্রের পুনেয়। এই জালিয়াতির সূত্রপাত এবছর ১৬ আগস্ট। মুম্বাই পুলিশের “এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট” বলে দাবি করে একটি ফোন আসে পুনের এক অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীর কাছ। এরপর ফাঁদ পাততে থাকে প্রতারকরা। পুনের ৮২ বছর বয়সী ওই অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীকে তারা “ডিজিটাল গ্রেপ্তার” করে। বলা হয়, বিদেশে বসবাসকারী তাঁর তিন মেয়ের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের তদন্ত চলছে। সেজন্য ওই বৃদ্ধকে তিন দিন “ডিজিটাল গ্রেপ্তার” করা হয়। ফোন করে প্রতারকরা তাঁকে জানান যে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার সঙ্গে জড়িত একটি অর্থ পাচারের মামলায় তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং আধারের বিবরণ অপব্যবহার করা হয়েছে।
এই ভাবে নানারকম ভয় দেখিয়ে ১৬ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুম্বাই সাইবার পুলিশ এবং সিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এই জালিয়াতি চালানো হয়। প্রতারকরা লোকটিকে তার ফোন ক্যামেরা চালু রাখতে নির্দেশ দেয়, কার্যকরভাবে দম্পতিকে তিন দিনের জন্য “ডিজিটাল গ্রেপ্তার” করে রাখে। সেই সময়ের মধ্যে, তারা তাদের সমস্ত ব্যাংক এবং আধারের বিবরণ বের করে নেয় এবং পাঁচটি ভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করতে বাধ্য করে। এরমধ্যে ওই অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী ও তাঁর ৮০ বছর বয়েসি স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে ১.১৯ কোটি টাকা প্রতারণা করা হয়। প্রতারকরা দম্পতির সঞ্চয় সহ বিদেশ থেকে তাঁদের মেয়েদের পাঠানো অর্থও নিঃশেষ করে নেয়।
হঠাৎ ওই ছদ্মবেশী প্রতারকদের ফোন কল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ওই দম্পতি বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারিত হয়েছেন। তখন তাঁরা যোগাযোগ করেন তাঁদের এক মেয়ের সঙ্গে। মেয়ের কথা মতো ওই দম্পতি পুরো ঘটনাটি পুলিশকে জানান। মঙ্গলবার পুলিশ তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে। বৃদ্ধা তদন্তকারীদের জানান, স্বামী তাঁদের জীবনের সঞ্চয় হারানো এবং প্রতারকদের দ্বারা অবিরাম হয়রানির পর প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।
এফআইআর থেকে জানা গেছে, ২২ অক্টোবর ওই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বাড়িতে পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, জালিয়াতি চলাকালীন তিনি ভীষণ ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পুনে সাইবার পুলিশের সিনিয়র ইন্সপেক্টর স্বপ্নালি শিন্ডে বলেছেন, “সিবিআইয়ের দিল্লি অফিস থেকে একজন আইপিএস অফিসার বলে দাবি করে ভুক্তভোগীকে ফোন করে। ফোনে বলা হয় যে দম্পতি একটি অর্থ পাচারের মামলায় জড়িত এবং তাদের ‘গৃহবন্দী’ বা ‘জেলে গ্রেপ্তার’ করা হবে।”
