ওঙ্কার ডেস্ক : চিনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর বৈঠক এবং তার পরেই আমেরিকায় অনুষ্ঠিত কোয়াড (Quadrilateral Security Dialogue) বৈঠক দুই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নয়াদিল্লির আপত্তি শেষ পর্যন্ত যৌথ বিবৃতিতে জায়গা পেল না। তবে দুই ক্ষেত্রের চিত্র ভিন্ন। এসসিও-র বিবৃতিতে আপত্তি তুলে ভারত শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর না করলেও, কোয়াডের যৌথ বিবৃতিতে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসের সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, তাতে সই করতেই হল বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে।
গত সপ্তাহে চিনে এসসিও-র বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। পাকিস্তান, রাশিয়া, চিনের মতো দেশের উপস্থিতিতে নয়াদিল্লি পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি তৎপরতা, বিশেষ করে পহেলগামের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছিল। কিন্তু খসড়া বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীরের সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ ঢুকল না, অথচ পাকিস্তানের বালুচিস্তান সংক্রান্ত জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার নিন্দা করা হল। ফলে খসড়া বিবৃতি দেখে রাজনাথ স্পষ্ট জানান, ভারত তাতে সই করবে না। তাই শেষ পর্যন্ত এসসিও-র যৌথ বিবৃতিতে ভারতের স্বাক্ষর নেই।
দুই ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিল নয়াদিল্লি, কিন্তু বাস্তবে দুই জোটেই ভারত একা। এসসিও-তে পাকিস্তান, রাশিয়া আর চিনের আঁটসাঁট ঘরানায় নয়াদিল্লির চাওয়া পূরণ হয়নি, আর ওয়াশিংটনে কোয়াডের বৈঠকে আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া-জাপান সরাসরি পাকিস্তানের নাম রাখতে ইচ্ছুক নয়। যদিও কোয়াডের যৌথ বিবৃতিতে পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা রয়েছে। বলা হয়েছে, ‘‘২২ এপ্রিল পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন, আমরা নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই” সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, ‘‘এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা অপরাধী, সংগঠক ও অর্থায়নকারীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’’ কিন্তু পাকিস্তানের সরাসরি উল্লেখ নেই।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এসসিও-র মঞ্চে এককাট্টা পাক-চিন-রাশিয়া জোটে ভারতের একার পক্ষে এই লাইন ধরা সম্ভব ছিল না। আর কোয়াডে সরাসরি পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে গেলে ভারত-মার্কিন সম্পর্কেই টান পড়ার আশঙ্কা ছিল। তার উপর, পরপর দুই মঞ্চের বিবৃতিতে সই না করলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান নিয়ে ভ্রান্ত বার্তা যেত। তাই শেষ পর্যন্ত আপত্তি থাকলেও কোয়াডের বিবৃতিতে সই করতে হয়েছে জয়শঙ্করকে।
