নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রাথমিক হতাশা কাটিয়ে ফের নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরলেন মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম ইসলাম। রবিবার নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনা ঠিক করতে রেজিনগরে কৌশলী বৈঠকও সারলেন তিনি।
উপনির্বাচনে লড়বেন কি না, তা নিয়েই শনিবার সকাল পর্যন্ত ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। শুক্রবার নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভোটে লড়াই নিয়ে বেঁকে বসেন রবিউল। জানিয়ে দেন, নির্বাচন থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই অল্প সময়ে্র মধ্যে ভোটারদের কাছে দলের নতুন নাম ও প্রতীক চেনানো সম্ভব নয়। এরপরই দলনেত্রীর ফোন আসে। মমতার কথায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলালেন। জানিয়ে দিলেন, ভোটের ময়দান থেকে তিনি সরছেন না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই নড়েচড়ে ওঠেন রবিউল। রবিবার বেলডাঙায় পার্টি অফিসে বৈঠক করে উপনির্বাচনের প্রচারের প্রস্তুতিও শুরু করে দেন। সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ, জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি-সহ দলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা।
নন্দীগ্রামের সঙ্গে আগামী ৬ অক্টোবর এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। গণনা হবে ৯ অক্টোবর। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই রেজিনগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। একই সঙ্গে নওদা থেকেও জেতার পর রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন হুমায়ুন। ঠিক একই কারণে নন্দীগ্রামেও উপনির্বাচন। সেখানে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লড়েছিলেন কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রেও। নিয়ম মাফিক একটি কেন্দ্র ছেড়ে দেওয়ার ফলে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হচ্ছে। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা সমর্থন জানাচ্ছে কংগ্রেসকে।
তাই মমতা তৃণমূলের কাছে এখনন রেজিনগরের গুরুত্ব অনেকটাই। এবার প্রতীক বিতর্কে জোড়াফুল নেই। নির্বাচন লড়াইয়ে মমতা তৃণমূলের প্রতীক এখন ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’। একথা মাথায় রেখে রবিবারের এদিন বৈঠকে রবিউলকে প্রতীকী ভাবে একটি ফুটবল তুলে দেন আলিফা ও বাবর। যদিও শনিবারের নাটকীয় পরিস্থিতির পর নিজের এলাকায় প্রচার শুরু করে দিয়েছেন রবিউল। জানা গেছে, উপনির্বাচনের প্রচারের পরিকল্পনা এবং বুথভিত্তিক রণকৌশল ঠিক করতেই রবিবারের এই বৈঠক। যদিও রেজিনগরে পঞ্চায়েত ধরে ধরে প্রচারের কৌশল নিয়েছে কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্ব। রবিবার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খানের ভাগ্নে সফিউজ্জামান হাবিব ও তাঁর অনুগামীদের। বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল লিখনের কাজ তাঁরা তদারকি করছেন।