ওঙ্কার ডেস্ক : নয়ডায় ‘স্বল্প বেতন পাওয়া’ শিল্প শ্রমিকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবিগুলো ‘লোভ নয়, এগুলো তাঁদের অধিকার।’
নয়ডা ফেজ ২-এর এই আন্দোলনের দিকে তাকিয়ে রাহুল স্পষ্টতই তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের পারিশ্রমিক নির্ধারিত মানের চেয়ে অনেক কম—পশ্চিম এশিয়ায় চলতি সংঘাতের কারণে যে ভাবে বাজারদর বেড়ে চলেছে তাতে তাঁদের জীবনযাপনে এই কষ্ট আরও বেড়েছে।
সোমবার নয়ডা ফেজ ২ এলাকার শত শত শিল্প শ্রমিক অন্যয্য কাজের পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পথে নামেন। তাঁদের দাবি, হরিয়ানা সরকারের অনুমোদিত বেতন বৃদ্ধির আদলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। পরে এই বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার নেয়। যার ফলে এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা কয়েকটি যানবাহনে আগুনও ধরিয়ে দেয়।
নয়ডার রাস্তায় এই তীব্র বিক্ষোভের দিকে তাকিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “গতকাল যা ঘটেছে তা ছিল এই দেশের শ্রমিকদের শেষ আর্তনাদ – যাদের প্রতিটি কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা হয়েছিল, যারা অবিরাম অনুনয়-বিনয় করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।”
তিনি একটি মেট্রো শহরের জীবনের “কঠিন বাস্তবতার” সঙ্গে তাঁদের বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য বিধানের পক্ষে যুক্তি দেন। একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, “তাঁদের ১২,০০০ টাকার মাসিক বেতনে জীবনযাপন সম্ভব নয়।” এক্স-এ একটি পোস্টে রাহুল বলেছেন, “এই লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি তাঁদের শ্বাসরোধ করছে। বেতন সেই পর্যায়ে না পৌঁছোলে তাঁরা ঋণের অতলে ডুববে।। এটাই কি ‘উন্নত ভারতের’ সত্য ?”
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং তার ফলস্বরূপ শ্রমিকদের জীবিকার উপর প্রভাবের মধ্যে যোগসূত্র টেনে তিনি বলেন যে, দিনমজুররাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাই তাঁদের দাবি জানানো ‘যৌক্তিক’ ছিল না। এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাহুল। বলেছেন, “যে শ্রমিক কোনো যুদ্ধের অংশ নয়, যে কোনো নীতি তৈরি করেনি – সে শুধু কাজ করেছে। নীরবে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই। আর নিজের প্রাপ্য দাবি করার জন্য সে কী পায় ? চাপ এবং নিপীড়ন।” তিনি আরও বলেন, প্রতিবাদী প্রত্যেক শ্রমিকের পাশে তিনি দাঁড়াবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শ্রমিকরা দেশের মেরুদণ্ড হলেও দুর্ভাগ্যবশত শাসকগোষ্ঠী তাদের ‘বোঝায় পরিণত করেছে’। এক্স-এ ওই পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নয়ডার শ্রমিক ২০ হাজার টাকা দাবি করছেন। এটা লোভ নয় – এটা তার অধিকার, তার জীবনের একমাত্র ভিত্তি।”
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা চারটি শ্রম আইনেরও সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা দাবি করেন যে, এটি তাদের জীবনে কেবল বোঝাই বাড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, সরকার কোনো আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কাজ করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ৪টি শ্রম আইন কার্যকর করেছে, যা তাদের কাজের সময় বাড়িয়ে দিনে ১২ ঘণ্টা দাঁড়িয়েছে।