ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জির তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারসভা থেকে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরে সরাসরি শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।
প্রচারে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস যদি সুশাসন দিতে পারত, তাহলে বাংলায় বিরোধী শক্তির এতটা প্রসার ঘটত না। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান রাজ্য সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার মতো বিষয়গুলি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তনের আশায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক।
এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসও কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শাসকদলের দাবি, বাংলার উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে উপেক্ষা করেই কংগ্রেস নেতারা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। তারা আরও জানায়, মানুষের সমর্থন তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে এবং নির্বাচনে তারই প্রতিফলন দেখা যাবে।
এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচারের মাধ্যমে কংগ্রেস রাজ্যে নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত করার চেষ্টা করছে বলে মণে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির মাঝখানে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার কৌশলও এতে স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে বাকযুদ্ধ তীব্র আকার নিচ্ছে।