ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চল ঘেঁষা বারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র আবারও নির্বাচনী মানচিত্রে অন্যতম ‘হটস্পট’ হিসেবে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক উত্তাপ, সংগঠনের শক্তির লড়াই এবং অতীতের অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে এই কেন্দ্রের লড়াই বরাবরই নজরকাড়া, আর এবারের নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
বর্তমানে এই কেন্দ্রের বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ চক্রবর্তী। ২০২১ সালের নির্বাচনে তাঁর জয়ের পর থেকে এলাকায় শাসকদলের প্রভাব বজায় থাকলেও, বিরোধী শিবির বিশেষ করে বিজেপি এখানে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ভোটের ময়দানে সরাসরি দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বারাকপুরের রাজনৈতিক চিত্রকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে এর শিল্পাঞ্চল চরিত্র। বহু কারখানা ও শ্রমজীবী মানুষের বসবাস এই এলাকায়, ফলে শ্রমিক ভোটব্যাঙ্ক এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের দাবি, কর্মসংস্থান, শিল্পের পুনরুজ্জীবন এই বিষয়গুলি ভোটের সমীকরণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। একইসঙ্গে, ধর্মীয় ও সামাজিক মেরুকরণও এই কেন্দ্রের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে, যা নির্বাচনের সময় আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
শাসকদল উন্নয়নের ইস্যুকে সামনে রেখে ভোটে লড়াই করতে চাইছে। এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক পরিষেবা বৃদ্ধি এবং ‘স্মার্ট’ নগরায়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হচ্ছে প্রচারে। অন্যদিকে, বিজেপি আদর্শগত লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে জাতীয় রাজনীতি, কেন্দ্রের নীতি এবং পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিকে সামনে রেখে তারা ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবে বারাকপুরের নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অতীতের রাজনৈতিক সংঘর্ষের ইতিহাস। বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় হিংসার অভিযোগ উঠেছে, যা ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। সাধারণ ভোটারদের একাংশ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে চান, কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনা সেই চাওয়াকে কতটা বাস্তবায়িত হতে দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ভোটের অঙ্কের দিকে তাকালে দেখা যায়, শাসকদলের সংগঠনগত শক্তি যথেষ্ট মজবুত হলেও বিজেপির ভোটব্যাঙ্কও কম নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত ফল নির্ভর করবে ভোটারদের মেরুকরণ, ভোটের শতাংশ এবং স্থানীয় ইস্যুগুলির ওপর। ছোট দল বা অন্যান্য প্রার্থীরা সরাসরি জয়ের লড়াইয়ে না থাকলেও, ভোট কাটাকাটিতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।