ওঙ্কার ডেস্ক : মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোট প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা জানালো নির্বাচন কমিশন। দেশের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ রাজ্যে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২,৯২৬ জন প্রার্থী।
রাজ্যে দ্বিতীয় পর্বে অর্থাৎ শেষ দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। তার জন্য মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৯ এপ্রিল এবং ১০ এপ্রিল ছিল মনোনয়ন যাচাইয়ের অন্তিম দিন। প্রার্থীদের ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর চুড়ান্ত হল মোট প্রার্থীর সংখ্যা।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রথম পর্বে রয়েছে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্র। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সেখানে ১,৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় পর্বে ১৪২টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১,৪৪৮ জন প্রার্থী। উভয় পর্ব মিলিয়ে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৯২৬ জন।
কমিশন জানিয়েছে যে, রিটার্নিং অফিসাররা ১৯৬১ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধি অনুযায়ী সরকারি গেজেটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবেন। এছাড়াও, মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাহার সংক্রান্ত সমস্ত নথি প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জন্য সুরক্ষিতভাবে সিল করে সরকারি হেফাজতে রাখা হবে।
ইসিআই আরও জানিয়েছে, নাগরিকরা ইসিআইনেট অ্যাপের ‘নো ইয়োর ক্যান্ডিডেট’ (আপনার প্রার্থীকে জানুন) বিভাগের মাধ্যমে প্রার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অপরাধমূলক রেকর্ড, সম্পদ, দায় এবং ডাউনলোডযোগ্য হলফনামার তথ্য।
ভোটার-বান্ধব একটি পদক্ষেপ হিসেবে, নির্বাচন কমিশন এটাও নিশ্চিত করেছে যে, ভোটদানের সুবিধার জন্য ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম-এর ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম, ক্রমিক নম্বর এবং দলীয় প্রতীকের সঙ্গে রঙিন ছবিও বড় অক্ষরে থাকবে।
এদিকে, ১১ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন রাজ্য পুলিশের মধ্যে একটি বড় ধরনের রদবদলের নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পদ থেকে ইন্সপেক্টর স্তর পর্যন্ত মোট ৩০ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির মধ্যে, কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রূপেশ কুমারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সোমা দাস মিত্র। তিনি আগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের ডিআইজি ছিলেন। একইভাবে, যুগ্ম কমিশনার (সদর দপ্তর) মিরাজ খালিদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সুদীপ সরকার। আগে তিনি রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (পার্সোনেল) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন ১৫ মার্চ আসাম, কেরালা, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সাধারণ নির্বাচন এবং ছয়টি রাজ্যে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল।