ওঙ্কার ডেস্ক: পহেলগাঁও হামলা, ‘অপারেশন সিঁদুর’ আর ভাইরাল ভিডিও তিনে মিলে উত্তাল হয়ে উঠল সংসদের বিশেষ অধিবেশন। মঙ্গলবার লোকসভার সপ্তম দিনে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সরাসরি তোপ দাগলেন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকি একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়েও জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে সংসদের বাইরেও।
সকালের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “পহেলগাঁও হামলার পর আমরা বিরোধীরা দলগতভাবে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলাম সরকারের পাশে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশে ছিলাম। কিন্তু সরকার সেই ঐক্যকে সম্মান জানায়নি।” রাহুলের দাবি, পাকিস্তানই ওই হামলার পিছনে ছিল এবং চিন তাদের সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে। এ প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, “চিন গোপনে তথ্য দিয়ে পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে। যদি তখন আমার কথা সরকার গুরুত্ব দিয়ে শুনত, তবে অপারেশন সিঁদুরে আমাদের পাঁচটি যুদ্ধবিমান নষ্ট হত না।”
সরকারের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার’-এর অভিযোগ এনে রাহুল বলেন, “যুদ্ধের মাঝপথে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে সেনার হাত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল চৌহানের কোনও ভুল ছিল না। ভুল ছিল সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের, যারা সেনাবাহিনীর হাতে স্বাধীনতা দেয়নি।”
সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে রাহুলের কটাক্ষ, “সবকিছুর লক্ষ্য একটাই প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষা করা। জয় তো হয়েছে, কিন্তু অভিযান এখনও শেষ হয়নি।” পাশাপাশি, চিন-পাকিস্তানের জোটের বিরুদ্ধে কড়া সুরে তিনি বলেন, “ভারতকে লড়তে হয়েছে চিন-পাকিস্তানি বাহিনীর সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে। অথচ, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এতটুকুও সাহস নেই যে ট্রাম্পকে মিথ্যাবাদী বলেন।”
এতসবের মাঝেই ছড়িয়ে পড়ে রাহুল গান্ধীর একটি ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ। সেখানে এক অশ্লীল শব্দ শোনা গেছে বলে অভিযোগ। যদিও অনেক নেটিজেনের দাবি, শব্দটি স্পষ্ট বোঝা যায়নি, এবং ভিডিওটি বিভ্রান্তিকরও হতে পারে। ‘মি. সিনহা’ নামক এক্স হ্যান্ডেল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা ছিল, “তিনি কি অভ্যাসবশতই অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করলেন?” বিষয়টি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভক্ত মত, কেউ রাহুলকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদের অশোভন ব্যবহারের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, ভিডিওটির সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি।
অন্যদিকে, সরকারপক্ষ এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্য বা ভিডিও ক্লিপ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে লোকসভায় মঙ্গলবারের এই আলোচনায় রাহুল গান্ধীর কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ, হতাশা এবং চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার মনোভাব।
