ওঙ্কার ডেস্ক: রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলায় বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যে পুরানো প্রেমিকের সঙ্গে মিলে পরিকল্পিতভাবে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে প্রথমে চুরি, ছিনতায়ের মামলা দেখানোর চেষ্টা করা হলেও পুলিশি তদন্তে উঠে আসে আসল সত্য। পুলিশের তদন্তে সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্র, যেখানে অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে স্বয়ং স্ত্রী এবং তার প্রেমিকের নাম। এই ঘটনা দেরাদুনে রাজা রঘুবংশী খুনের ঘটনার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে মত অনেকের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে পরিবার-পরিজনের উপস্থিতিতে সামাজিক নিয়ম মেনেই বিয়ে হয়েছিল ওই দম্পতির। বিয়ের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ স্বাভাবিকভাবেই কাটছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। তদন্তকারীদের দাবি, বিয়ের আগের এক পুরনো প্রেমের সম্পর্ক পুনরায় জুড়ে বসেছিল স্ত্রীর জীবনে। সেই সম্পর্কই পরে ভয়ংকর মোড় নেয়।
ঘটনার দিন রাতে খাবার খাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী বাড়ির কাছাকাছি রাস্তায় হাঁটতে বের হন। কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে, একটি অজ্ঞাত গাড়ি ধাক্কা মেরে চলে যাওয়ায় গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় পড়ে রয়েছেন স্বামী। স্ত্রীও আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন বলে দাবি করা হয়। স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা স্বামীকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটিকে হিট-অ্যান্ড-রান দুর্ঘটনা হিসেবেই ধরে নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। শরীরে আঘাতের ধরন ও চিহ্ন দেখে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়, এটি স্রেফ গাড়ির ধাক্কায় হওয়া মৃত্যু নয়। গলায় চাপ প্রয়োগের চিহ্ন এবং মারধরের প্রমাণ মিলতে থাকে। এরপরই পুলিশের সন্দেহের তীর ঘুরে যায় পরিবারের দিকেই।
পুলিশ স্ত্রীর বয়ান খতিয়ে দেখে একাধিক অসামঞ্জস্য খুঁজে পায়। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং লোকেশন ট্র্যাক করে জানা যায়, ঘটনার আগে ও পরে তার এক পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলে ধীরে ধীরে ফাঁস হতে থাকে পুরো ষড়যন্ত্র।
তদন্তকারীদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই প্রেমিক এবং তার দুই সহযোগী নির্দিষ্ট জায়গায় অপেক্ষা করছিল। দম্পতি সেখানে পৌঁছনোর পর আচমকা হামলা চালানো হয়। স্বামীকে মারধর করে পরে গলা টিপে খুন করা হয়। তারপর ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে পুরো দৃশ্য সাজানো হয়। স্ত্রী নিজেও অজ্ঞান হওয়ার ভান করে পড়ে থাকেন, যাতে সন্দেহ এড়ানো যায়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছু ব্যক্তিগত জিনিস গায়েব ছিল, যা পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এতে পরিকল্পিত অপরাধের প্রমাণ আরও জোরদার হয়। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী, তার প্রেমিক এবং আরও দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
