ওঙ্কার ডেস্ক : শুক্রবার রাজস্থানের ঝালাওয়ারে সরকারি স্কুলের একটি অংশ ধসে সাত শিশু নিহত হয়েছে। অভিযোগ, সতর্ক করে দেওয়া স্বত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষক শিক্ষিকারা এ বিষয়ে গুরুত্ব দেনননি। ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী এক শীক্ষার্থী জানিয়েছে, সে তার শিক্ষিকাকে জানিয়েছিল যে ছাদ থেকে নুড়িপাথর পড়ছে, কিন্তু তার কথায় কান দেননি ওই শিক্ষিকা। যার মর্মান্তিক পরিণতি হিসেবে ৭টি শিশু প্রাণ হারাল। আহত অন্তত ২৭ জন। নিহতদের নাম পায়েল (১২), প্রিয়াঙ্কা (১২), কুন্দন (১২), হরিশ (৮), কার্তিক এবং এক ভাই ও বোন – মীনা (১২) এবং কানহা (৬)।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক ছাত্র বলেছে, “আমরা যখন স্কুলে পৌঁছাই, তখন শিক্ষক আমাদের সকালের প্রার্থনার জন্য ক্লাসরুমে অপেক্ষা করতে বলেন। তারপর ছাদ থেকে কিছু নুড়িপাথর পড়তে শুরু করে। একজন ছাত্র তৎক্ষণাত শিক্ষককে খবর দেয়। অথচ তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এর ঠিক পরেই ছাদ ভেঙে পড়ে। আমি পালাতে পারলেও অন্যরা আটকা পড়ে”। আরেকজন ছাত্র জানিয়েছে যে, ছাদ ভেঙে পড়তে পারে এমন খবর পেয়েও এক শিক্ষক ‘পোহা’ খাওয়া নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।
ছাদের ভগ্নদশার কথা বারবার বলা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ঝালাওয়ারের কালেক্টর অজয় সিং বলেছেন, জেলা প্রশাসন সম্প্রতি শিক্ষা বিভাগকে জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সম্পর্কে যে রিপোর্টে পেয়েছেন তার মধ্যে এই স্কুল নেই। এই ঘটনায় স্কুলের পাঁচজন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। তিনি বলেছেন, “কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনও স্কুল ভবন যেন জরাজীর্ণ অবস্থায় না থাকে”। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিক্ষার্থীদের এই মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। X-এ একটি পোস্টে রাষ্ট্রপতি মুর্মু বলেছেন, “রাজস্থানের ঝালাওয়ারে একটি স্কুলের ছাদ ভেঙে পড়ে, যার ফলে বেশ কয়েকজন ছাত্রের মৃত্যু এবং আহত হওয়ার খবর অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি প্রার্থনা করি ঈশ্বর যেন শোকাহত পরিবারগুলিকে এই যন্ত্রণা সহ্য করার শক্তি দেন”। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘটনাটিকে মর্মান্তিক এবং গভীরভাবে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সকল সহায়তা করছে”।
