নিজস্ব সংবাদদাতা, রামপুরহাট : শনিবার বিকেলে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে রামপুরহাট থানার অন্তর্গত বৈধরা সেতুর কাছে ব্রাহ্মণী নদীতে স্নান করতে নেমেছিল চার কিশোর। দুর্ভাগ্যবশত জলের স্রোতে ভেসে যায় তারা। যথাসময়ে উদ্ধার না হওয়ায় দুই জনকেই প্রাণ হারাতে হয়। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃত দুই কিশোরের নাম ইজাজ শেখ ও রিকি শেখ দুজনের বাড়ি রামপুরহাট থানার সইপুর গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদীতে স্নান করতে যাওয়া নিয়মিত অভ্যাস হলেও বারবার সচেতনতা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটছে। কয়েকদিন আগেই নলহাটি থানার পক্ষ থেকে নদী-সংলগ্ন গ্রামগুলিতে বিশেষ প্রচার অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই প্রচারে নদীর গভীরতা, স্রোত এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছিল। প্রচারের কিছু ছবি আজও প্রশাসনের কাছে রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই সতর্কবার্তার গুরুত্ব না দেওয়ায় এদিন দুই পরিবারের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে গেল।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর ধারে ভিড় জমে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্য চালায়। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর দুই কিশোরকে নদী থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত দুই কিশোরের বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। অসহায় পরিবারগুলির আর্তনাদে ভেসে গেছে গোটা গ্রাম। এলাকাবাসীও এই ঘটনার জন্য গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।
পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, স্থানীয়দের আরও সতর্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের নদীতে একা বা বয়স্কদের ছাড়া স্নানে নামতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হবে। একই সঙ্গে গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক প্রচার আরও জোরদার করা হবে।
রামপুরহাট ও নলহাটি থানার পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যেই একাধিকবার নদীঘাট ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তবুও কিছু মানুষ সেই সতর্কতা অমান্য করে দুর্ঘটনার মুখে পড়ছেন। আজকের ঘটনা সেই দুঃখজনক প্রমাণ বহন করছে। প্রশাসনের মতে, এখন প্রয়োজন গ্রামীণ স্তরে অভিভাবকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া। অভিভাবকরা যদি সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ান এবং নদীতে অবাধে স্নানের প্রবণতা বন্ধ করেন, তাহলে ভবিষ্যতে এরকম অঘটন এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
এই ঘটনা গোটা জেলাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাহ্মণী নদীর ঘাটে এভাবে দুই কিশোরের অকালমৃত্যু শুধু দুটি পরিবার নয়, গোটা সমাজের কাছে এক বড় শিক্ষা। প্রশাসন ও পুলিশ বারবার আহ্বান জানিয়েছে—সতর্ক থাকুন, জীবন অমূল্য।
