ওঙ্কার ডেস্ক: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে ইডির অফিসে হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। অতীতে পাঁচবার কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে শুক্রবার সকাল ১০ বেজে ৩০ মিনিটে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন তিনি। কেন তাঁকে তলব করা হয়েছে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এবিষয়ে তিনি অবগত নন। প্রসঙ্গত পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে হেফাজতে রেখেছে ইডি। ইডি জানিয়েছে পুরনিয়োগ দুর্নিতি মামলায় কম বেশি ১৫০ জন যুক্ত আছে।
শুক্রবার দফতরে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রথীন ঘোষ জানান, তাঁকে কেন ডাকা হয়েছে তা তিনি স্পষ্টভাবে জানেন না। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দক্ষিণ দমদম পুরসভা-সহ একাধিক পুর নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় তাঁর নাম উঠে আসায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই তৃণমূলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম জড়িয়েছে। প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর থেকেই রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় প্রায় ১৫০ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে অর্থের বিনিময়ে প্রার্থীদের সুযোগ পাইয়ে দেওয়া হয়। চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা, আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তির তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্ত এগোচ্ছে।
পুর নিয়োগ দুর্নীতির সূত্র প্রথম সামনে আসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন। ব্যবসায়ী অয়ন শীলের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওএমআর শিট এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় সংস্থা জানতে পারে, শুধুমাত্র শিক্ষা ক্ষেত্র নয়, বিভিন্ন পুরসভাতেও একইভাবে দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ, একাধিক পুরসভায় নিয়োগের নামে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি হয়েছে।
সিবিআই ও ইডি-র যৌথ তদন্তে ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে, কলকাতা ও শহরতলির অন্তত ১৬টি পুরসভায় এই দুর্নীতির প্রভাব ছড়িয়ে ছিল। নিয়োগে স্বচ্ছতার বদলে রাজনৈতিক সুপারিশ, অর্থের লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রে আরও বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারেন।
রথীন ঘোষের হাজিরা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, শাসকদলের একের পর এক নেতার নাম সামনে আসা প্রমাণ করছে যে দুর্নীতির শিকড় প্রশাসনের গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বিস্তার ও গভীরতা সামনে আসছে। রথীন ঘোষের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন তথ্য মিলতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল। এর ফলে আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্বস্তি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।