ওঙ্কার ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যরাতের ভিডিও বার্তার পরেই শুক্রবার খসড়া বিলে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সেই বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ হতে পারে। খসড়া বিলে যতদূর সম্ভব কঠোর অবস্থান রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণ হলে ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে! সেই সঙ্গে রাখা হয়েছে ১০ কোটি টাকা জরিমানাও। ফলে এই ধরনের অপরাধে চলতি আইনকে আরও কঠোর করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে বলা হয়েছে এই ধরনের বিচার হবে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে। যাতে অতি দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি হয়। জানা গেছে, বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দোষীদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সঙ্গে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা মতো প্রশ্ন ফাঁস মামলায় তদন্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তৈরি হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, এবার পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪-এ সংশোধনের বিষয়েও সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োবার্তায় মোদী বলেন, ‘‘প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ বিষয় নয়। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।’’ যদিও তিনি জানিয়েছেন, এই কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে গত আড়াই মাসে সরকারের তরফে বেশকিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের যাতে এক বছর নষ্ট না হয় তাই চটজলদি দ্বিতীয় বার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
মোদীর এই আশ্বাসের পরেই চলতি পরিস্থিতি থেকে কিছুটা সুফল মেলে। মোদীর প্রতি আস্থা রেখে ২৬ দিন পর অনশন প্রত্যাহার করে নেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে লাগাতার অনশনে ছিলেন তিনি।
ওয়াংচুক অনশন তুলে নিলেও নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি-র আন্দোলন অব্যাহত। তিন দফা দাবিতে তারা অনড় রয়েছে। যার অন্যতম হল- দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। এছাড়া, নিট কেলেঙ্কারির কারণে গত মে মাস থেকে যে কয়েকজন পরীক্ষার্থী আত্মঘাতী হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে এক কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দিতে হবে বলেও দাবি সিজেপির।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়ো বার্তার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী। তিনি লেখেন, “মাননীয় মোদীজি, আমাদের ছাত্রেরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করছেন। আপনি মধ্যরাতের করুণ ভিডিয়ো দিয়ে তাঁদের বুদ্ধিমত্তাকে অপমান করবেন না।” তার পরেই প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রদের তিনটি দাবির কথা স্মরণ করিয়ে দেন রাহুল। তিনি উল্লেখ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, পড়ুয়াদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি এবং পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা না করলে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না।
এই পরিস্থিতিতে নিট-কাণ্ডে শুক্রবারও সরগরম ছিল সংসদ। উভয় কক্ষেই দফায় দফায় অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। পরে সারা দিনের জন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। তবে সংসদ চত্বরে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলতে থাকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সরব থাকেন বিরোধী সাংসদেরা। লোকসভার ভিতরেও ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে স্লোগান ওঠে। এই আবহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে দোষীদের কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করে রাখা হল খসড়া বিল। তাতে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।