ওঙ্কার ডেস্ক: কেরালার রাজনীতিতে একের পর এক যৌন হেনস্থার অভিযোগে তোলপাড়। অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংবাদিক রিনি অ্যান জর্জ অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের যুবনেতা বারবার তাঁকে অশালীন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং হোটেলে ডাকতেন। অভিযোগকারি বলেন, তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনবেন জানালে ওই নেতা তাঁকে উল্টে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
রিনি অ্যান জর্জ সরাসরি নাম না নিলেও বিজেপি কর্মীরা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আসলে যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি তথা কংগ্রেস বিধায়ক রাহুল মামকুটাতিল। এর পরপরই বিজেপি কর্মীরা রাহুলের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলেন। বিরোধীতার জন্য নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাহুল।
রিনির বক্তব্য, শুধু তিনি নন, ওই যুবনেতার হাতে আরও অনেক নেতার স্ত্রী ও মেয়েরাও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন “যেসব রাজনীতিক তাঁদের পরিবারের মহিলাদেরই সুরক্ষিত রাখতে পারেন না, তাঁরা অন্য মহিলাদের রক্ষা করবেন কীভাবে?” অভিনেত্রী দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বহুবার অভিযোগ জানানোর পরও অভিযুক্ত যুবনেতাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাই এবার তিনি সবার হয়ে মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর মধ্যেই নতুন অভিযোগ এনেছেন লেখিকা হানি ভাস্করন। ফেসবুকে তিনি দাবি করেছেন, রাহুল মামকুটাতিল সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার তাঁকে বার্তা পাঠাতেন। প্রথমে কথোপকথন ভ্রমণ নিয়ে হলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, নেতার উদ্দেশ্য অন্যরকম। তিনি উত্তর দেওয়া বন্ধ করলে রাহুল নাকি তাঁর নামে নানা অপমানজনক মন্তব্য ছড়ান। তিনি আরও জানান, যুব কংগ্রেসের বহু কর্মী রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেরালার বিরোধী দলনেতা ভি.ডি. সাথীসান বলেন, “আমরা এই অভিযোগ এই প্রথম শুনছি। অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিনেত্রী ও লেখিকার পরপর অভিযোগে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনীতিতে। ইতিমধ্যেই নিজের যুন নেতার পদ থেকে সড়ে গেছেন রাহুল মামকুটালি। এখনও উতপ্ত কেরালা।
