মাহাবুব মোল্লা
চলতি বছর দেশের রাজনীতিতে যতগুলি বড় ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে অন্যতম বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। এই রাজ্যে কে ক্ষমতার কুর্সিতে বসে, সেদিকে নজর ছিল দেশের রাজনৈতিক মহলের। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারেনি নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি। কেন্দ্রে সরকার গঠনে নীতিশ কুমারের সাহায্য নিতে হয়েছে তাঁকে। এই আবহে বিহারে এনডিএ জোট কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তার পরীক্ষা ছিল এই বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচনে সেশ হাসি হেসেছেন নীতিশ কুমার।
২৪৩ আসন বিশিষ্ট বিহার বিধানসভার নির্বাচন হয় ৬ এবং ১১ নভেম্বর। ভোট গণনা এবং ফল প্রকাশ হয় চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর। ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টিতে জয়লাভ করেছে। অন্য দিকে আরজেডি-র নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেয়েছে মাত্র ৩৫টি আসন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রেকর্ড গড়ে দশম বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং বিজয় কুমার সিনহা। এই প্রথম বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন আরজেডি ২০১০ সালের পর প্রথম বারের মতো তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে ৬৭.১৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১৯৫১ সালের পর যা সর্বোচ্চ। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে কোনও বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠেনি। ২ হাজার ৬১৬ জন প্রার্থী কিংবা ১২টি রাজনৈতিক দল— কেউই পুনর্নির্বাচনের জন্য অনুরোধ জানায়নি। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে বিহারে প্রথম এসআইআর হয়। এসআইআর এর পর চূড়ান্ত তালিকায় ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৫৮ জন ভোটারের নাম উঠেছে। বিহারে ভোট গণনায় ২৪৩ জন রিটার্নিং অফিসার নিযুক্ত করা হয়েছিল। মোট ৪ হাজার ৩৭২টি গণনা টেবিল ছিল। যার প্রত্যেকটিতে ১ জন করে কাউন্টিং সুপারভাইজার, কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং মাইক্রো অবজার্ভার ছিলেন।
