মাহাবুব মোল্লা
চলতি বছরে সবচেয়ে আলোচিত জঙ্গি হামলা ছিল জম্মুকাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা। তার পরে রয়েছে দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা। ফিরে দেখা কুখ্যাত সেই দুই জঙ্গি হামলা।

পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড
গত ২২ এপ্রিল জম্মুকাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি করে ২৬ জন নিরীহ মানুষকে খুন করেছিল। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগ ছিলেন পর্যটক। এই ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। পহেলগাঁও কাণ্ডের জবাবে ভারতের সেনাবাহিনী পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নয়টি জায়গায় আঘাত হেনে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে? প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে জম্মুকাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করে। হামলাকারীরা পাঁচ-ছয় জন ছিল। সকলে মুখে মাস্ক পরে ছিল। হাতে একে ৪৭ নিয়ে আচমকাই পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। ২৬ জন নিহতের মধ্যে তিন জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ছিলেন। জম্মুকাশ্মীর সরকার নিহতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করে। পাশাপাশি যাঁরা গুরুতর জখম হন তাঁদেরকে দু’লক্ষ এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর আহতদের এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে জম্মুকাশ্মীর সরকারের তরফে জানানো হয়।

দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ
গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে গাড়ি থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন একটি ‘হুন্ডাই আই২০’ গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। যেটির চালকের আসনে ছিলেন চিকিৎসক উমর নবির। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় সেই আত্মঘাতী জঙ্গি উমরের। সেই বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া গাড়িটি লালকেল্লার কাছে একটি পার্কিংয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। বিস্ফোরণের দিনেই দুপুরে ওই পার্কিংয়ে গাড়িটি প্রবেশ করেছিল। সন্ধ্যায় বেরোনোর কিছু ক্ষণের মধ্যে বিস্ফোরণ হয়। এই দীর্ঘ সময় পার্কিংয়ে বসেই বিস্ফোরকটি তৈরি করেছিলেন জঙ্গি উমর।
লালকেল্লায় বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার যায় এনআইএ এর হাতে। গোয়েন্দারা জানতে পারেন। উমর নবি হরিয়ানার আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন। তার পাশাপাশি নিজের কট্টরপন্থার পক্ষে কাজ চালিয়ে যেতেন উমর। উমর ছাড়া আরও তিন চিকিৎসকের নাম দিল্লি বিস্ফোরণে জড়িয়েছে। তাঁরা হলেন মুজাম্মিল শাকিল, শাহিন শহিদ, মুজফফর আহমেদ। চার জনই ভিনরাজ্য থেকে এসে হরিয়ানার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।
