অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: পনেরো বছর ধরে রাজ্যের নানা দফতরে কীভাবে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ হয়েছে, এবার তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রতিটি বিভাগে কতজনকে নেওয়া হয়েছে, সেই নিয়োগ বৈধ পদ্ধতিতে হয়েছে কি না, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাওয়া হয়েছে।
নবান্নের সূত্র অনুযায়ী, বিশেষ করে গ্রুপ ডি স্তরের অস্থায়ী কর্মীদের ফাইল তলব করা হয়েছে। সেচ ও জলসম্পদ দফতর ইতিমধ্যেই সব সার্কেলের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে নির্ধারিত ছকে তথ্য চেয়ে নির্দেশ পাঠিয়েছে। অর্থ দফতরের বিধি মেনে নিয়োগ হয়েছিল কি না, কারও নামে কোনও ফৌজদারি অভিযোগ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা আছে কি না, সব কাগজপত্র-সহ ৬ নভেম্বরের ভিতর জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের অভিযোগ, গত দেড় দশকে স্থায়ী পদে লোক না নিয়ে চুক্তির কর্মী দিয়েই দফতর চালানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধীরা তখন অভিযোগ তুলেছিল, বিধি উপেক্ষা করে শাসকদলের লোকজনকে সরকারি দফতরে ঢোকানো হচ্ছে। তথ্য বলছে, এই ধরনের কর্মীর সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার, ২০১২ সালে একবারে দমকলে ১ হাজার ৬৯২ জনকে চুক্তিতে নেওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তার পরের বছরই পুলিশের কাজে সহায়তার জন্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার সিভিক পুলিশ নিয়োগে অনুমোদন মেলে। ২০২৪-এর খতিয়ানে সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রাম পুলিশ ও গ্রিন পুলিশ মিলিয়ে সংখ্যাটা ১ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি। ওই বছরই বাজেট নথিতে গ্রুপ সি ও ডি মিলিয়ে চুক্তিভিত্তিক কর্মী প্রায় ৫০ হাজার দেখানো হয়। আর ২০২৬ সালে এসে মোট অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ ছুঁয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দফতর ধরে ধরে সমীক্ষা শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
কনট্র্যাকচুয়াল এমপ্লয়িজ় অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা মনোজ চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, “অস্থায়ী কর্মী ধাপে ধাপে বেড়েই চলেছে, কিন্তু লক্ষাধিক স্থায়ী পদ এখনও শূন্য। এতে সরকারের খরচ বাড়ছে, স্বচ্ছতার প্রশ্নও উঠছে। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি-র বহু পদ গত ১৫ বছর কেন, বাম আমল থেকেই ফাঁকা। সেই শূন্যস্থান না ভরে চুক্তিতে লোক নেওয়া হয়েছে। এঁদের কোনও পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা নেই, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিকল্পনা করেই এটা করা হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, এই অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করা হোক এবং যোগ্যদের গ্রুপ ডি থেকে গ্রুপ সি-তে উন্নীত করা হোক।”
বেআইনি নিয়োগ প্রমাণিত হলে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার।