অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: রবিবার রাজধানীর রাজপথে কার্যত মুখোমুখি শাসক ও বিরোধী শিবির। একদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে কনট প্লেস থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের মিছিল। অন্যদিকে ১৯৮৪-র শিখ বিরোধী দাঙ্গার প্রতিবাদে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির পাল্টা মিছিল। দুই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কায় বাড়তি সতর্কতায় পুলিশ।
বিজেপির দাবি, ১৯৮৪-র ঘটনার বর্ষপূর্তিতে কংগ্রেস কর্মসূচি সাজিয়েছে। তাই ওই দিনই শহিদদের স্মরণে তারা পথে নামছে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ হরিনগর বাস ডিপো থেকে তিলকনগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত তাদের মিছিল হওয়ার কথা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ছাড়াও হর্ষ মলহোত্র, এইচএস ফুলকা, মজিন্দর সিং সিরসা, বাঁসুরী স্বরাজরা থাকবেন। মিছিলে ১৯৮৪-র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা হাঁটবেন। শহিদগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে সাংসদ বিক্রমজিৎ সিং সাহনি বক্তব্য রাখবেন।
অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচি শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে কনস্টিটিউশন ক্লাবে জমায়েত দিয়ে। দুপুর ১২টায় মিন্টো রোড-কনট প্লেস মোড় থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত মিছিল যাবে। নেতৃত্বে থাকবেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে। যোগ দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমন্ত সোরেন, রেবন্ত রেড্ডি, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবরা। ছাত্র সংগঠন আইসা সমর্থন জানিয়েছে, নেত্রী নেহা বোরা জমায়েতের ডাক দিয়েছেন। ককরোচ জনতা পার্টি নৈতিক সমর্থন জানালেও রবিবার সরাসরি পথে থাকছে না বলে জানিয়েছেন প্রধান অভিজিৎ দিপকে।
দুই মিছিলের জেরে রামলীলা ময়দানে ১০ হাজার পুলিশ-আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে, শহরজুড়ে বসেছে ২৫০টির বেশি এআই সিসি ক্যামেরা, রয়েছে ব্যারিকেড। এদিকে উৎসবের মরসুমে এই রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ দিল্লির ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনের জন্য ক্রেতারা বাজারে বেরোচ্ছেন না, দীপাবলির ব্যবসা মার খাচ্ছে। এই নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি রাহুল গান্ধীকে চিঠিও দিয়েছে।