অর্পিতা মুখার্জী: ইরানে ফের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই।
শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওদের পরমাণু কর্মসূচি গুঁড়িয়ে দিয়েছি। এখনও এক-দুটি জায়গা বাকি আছে, যেটা ১০ মিনিটে সেরে ফেলা যায়।” এই সূত্রেই ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত একটি সাইটের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
এরপরেই এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এই সপ্তাহেই কি ফের ইরানে হামলা চালানো হতে পারে? এর জবাবে কিছুটা চটে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেন, “এত বোকার মতো প্রশ্ন করছেন কেন? ধরুন করবই, সেটা কি আপনাকে বলব?” তবে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও ইরানকে ‘খুব একটা ভরসাযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য তাঁর।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগেই প্রথমবার সেনা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মোজতবা খামেনেই হুঁশিয়ারি দেন, যে কোনও হুমকির ‘তাৎক্ষণিক, জোরালো এবং ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে’ জবাব দেওয়া হবে। আমেরিকা-ইজরায়েলের সব ধরনের সম্পদকে ইরানের টার্গেট লিস্টে যোগ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। মার্চে বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি মোজতবাকে। এটাই ছিল সেনা কর্তাদের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’র রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর মিড-টার্ম নির্বাচনের পর ইরানে ‘ছোট, তীব্র সামরিক অভিযান’-এর জন্য উপসাগরীয় দেশগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে ওয়াশিংটন। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেননি ট্রাম্প। গত সপ্তাহে তিনি নিজেও ‘আরেকটা এপিক ফিউরি’র কথা বলেছিলেন, যা ছিল ইরানে মার্কিন হামলার সাংকেতিক নাম।
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও শনিবার বলেন, চাইলে সামরিক লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব, তবে ট্রাম্প এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পরিকল্পনার জন্য তেহরানকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই সহ শীর্ষ সেনা কর্তাদের হত্যা করে, তখন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। পাল্টা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তেহরান, যার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যায়। ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তি করলেও, ৮ জুলাই ট্রাম্প বলেন চুক্তি শেষ। এক সপ্তাহ পর তেহরানও চুক্তি স্থগিত করে। তারপর থেকে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। এদিকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের ধর্মীয় শাসন উৎখাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন।