ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়া ও বেলরুশের যৌথ সামরিক মহড়া ‘জাপাদ ২০২৫’-এ ভারতের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের একাংশ অভিযোগ তুলছে, এই মহড়ায় যোগ দিয়ে নাকি লাল রেখা অতিক্রম করেছে ভারত। যদিও সরকারি মহলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ একেবারেই অতিরঞ্জিত।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার মিলিয়ে ৬৫ জন ভারতীয় সেনাকর্মী এ মহড়ায় অংশ নিয়েছেন। সেনা দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কুমায়ুন রেজিমেন্টের একটি ব্যাটেলিয়ন। প্রতিরক্ষা দফতরের ব্যাখ্যা, দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই ভারত এই মহড়ায় যোগ দিয়েছে। এর উদ্দেশ্য মূলত যৌথ মহড়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, কৌশলগত শিক্ষা অর্জন ও বাহিনী সম্পর্ক মজবুত করা।
রাশিয়া বেলরুশের উদ্যোগে আয়োজিত জাপাদ ২০২৫ মহড়া বিশাল আকারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের ভারী সামরিক সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও জটিল যুদ্ধাভ্যাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ বলছে, মহড়ার সময় পারমাণবিক সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও মহড়া হয়েছে। তবে ভারতীয় বাহিনী যে কোনওভাবে পারমাণবিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে, তার কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।
পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, রাশিয়া ও বেলরুশের সঙ্গে ভারতের এই সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো জন্য বড় বার্তা। এমনকি কেউ কেউ এটিকে আন্তর্জাতিক কৌশলগত ভারসাম্য বদল বলেও তুলে ধরছে। তবে ভারতের অবস্থান একেবারেই আলাদা। নয়া দিল্লি বারবার জানিয়েছে, কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নেওয়া নয়, বরং কৌশলগত দিক বজায় রেখেই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জারি রাখাই তাদের লক্ষ্য।
আসলে মহড়ায় ভারতের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে ছোট। পুরো মহড়ার সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে ৬৫ জনের ভারতীয় কনটিনজেন্টের উপস্থিতি সামান্য অংশমাত্র। বাস্তব চিত্রের তুলনায় পশ্চিমি সংবাদমাধ্যম ভারতীয় অংশগ্রহণকে অনেক বড় করে দেখাচ্ছে।
ফলে জাপাদ ২০২৫ মহড়ায় ভারতের উপস্থিতি যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা স্পষ্ট। তবে অভিযোগ বিতর্ক যতই হোক, সরকারি স্তরে ভারত এখনো নিজের অবস্থান পরিষ্কার রেখেছে এটি একটি পেশাদার সামরিক মহড়া, কোনও সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার বার্তা নয়।
