ওঙ্কার ডেস্ক: বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সম্প্রতি ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিকে ঘিরে কড়া মন্তব্য করে জানান, সব দেশেরই প্রতিবেশী থাকে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবেশী “খারাপ”। তাঁর এই বক্তব্য সরাসরি পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। জয়শঙ্করের কথায়, কোনও দেশ যদি পরিকল্পিতভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং বিন্দুমাত্র অনুশোচনা ছাড়াই সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়, তাহলে সেই দেশের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের রয়েছে এবং সেই প্রতিক্রিয়া কীভাবে হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকারও একমাত্র ভারতেরই।
বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারতের সিদ্ধান্তে কোনও তৃতীয় পক্ষ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরের মতোই কঠোর থাকবে এবং প্রয়োজনে সীমান্তের বাইরে গিয়েও পদক্ষেপ করতে দ্বিধা করা হবে না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক অতীতে সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি হামলা এবং তার প্রেক্ষিতে ভারতের নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলির প্রসঙ্গ। জয়শঙ্করের মতে, শান্তি ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না, আর এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক মহলের বোঝা উচিত।
এছাড়াও তিনি ইঙ্গিত দেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে হওয়া চুক্তিগুলিও তখনই অর্থবহ, যখন উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখে। সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দিয়ে একদিকে সহযোগিতা আশা করা যুক্তিযুক্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও উত্তেজনার মধ্যেও কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে, তবে সামগ্রিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য প্রতিবেশী দেশের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি বলে মত বিদেশমন্ত্রীর।
জয়শঙ্করের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে আপস নয়, জাতীয় স্বার্থেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে নয়া দিল্লি।
