ওঙ্কার ডেস্ক: জাপানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬৪ বছর বয়সী কনজারভেটিভ নেতা সানে তাকাচিকে দলের নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এই পদে তিনি প্রথম নারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যা জাপানের রাজনীতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই নির্বাচনের জয়ের মাধ্যমে তাকাচি এখন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন।
সানাই তাকাচি, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত, এলডিপি-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কৃষিমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমিকে পরাজিত করেন। প্রথম রাউন্ডে তিনি ৩১.০৭% ভোট পেয়েছিলেন এবং রান-অফে ৫৪.২৫% ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নেতৃত্বে দল নতুন শক্তি ও দিকনির্দেশনা পেতে যাচ্ছে।
তাকাচি একজন দৃঢ় নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি করতে আগ্রহী এবং অতীতে চীনের প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সংশোধন এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তিনি সমর্থন দিয়েছেন। তবে তার জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
সমাজে সমতার ক্ষেত্রে তিনি কিছু পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে তাঁর অতীতের রক্ষণশীল অবস্থান নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি সমকামী বিবাহের বিরোধী এবং বিবাহিত দম্পতিদের জন্য একক পদবি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন। এই বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আগামী ১৫ অক্টোবর জাপানের সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তাকাচির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে দেশকে অর্থনৈতিক মন্দা, বৃদ্ধিপ্রবণ জনসংখ্যা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি দলের পুনর্গঠন এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাও তার বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে।
