ওঙ্কার ডেস্ক: আদালত অবমাননার মামলায় বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের কারাদণ্ডের সাজা শোনাল সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার এই সাজা শুনিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বিচারপতি মহম্মদ গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বুধবার এই নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলায় অন্যতম দোষী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকেও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
কী নিয়ে মামলা হাসিনার বিরুদ্ধে?
গত বছর ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পড়ে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসেন তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে বসে তিনি একাধিক বার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি কথা বলেছেন। তেমনই একটি কথোপকথনের অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসে। যেখানে এক নারীকণ্ঠকে বলতে শোনা যায় ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছি’। সেখানে ওই নারীকন্ঠ জানান, বাংলাদেশে তাঁর নামে ২২৭টি খুনের মামলা করা হয়েছে। তাই তিনি ২২৭টি খুনের লাইসেন্স পেয়ে গিয়েচছেন। কারণ, একটি খুনের ঘটনায় যে সাজা, ২০০ এর বেশি খুনের ঘটনায়ও সেই সাজা। অনুসন্ধানে নেমে অডিওটি ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করে বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থা জানায়, ওই কন্ঠটি শেখ হাসিনার। শাকিল আহমেদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৩০ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানিতে দুজনকে ২৫ মে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, নির্ধারিত দিনে তাঁরা হাজিরা দেননি, কিংবা আইনজীবীর মাধ্যমে কোনও ব্যাখ্যাও দেননি। এর পর সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু তার পরেও শেখ হাসিনা এবং শাকিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। অবশেষে বুধবার এই মামলায় দুজনকে আদালত অবমাননার সাজা শোনাল ট্রাইব্যুনাল।
