ওঙ্কার ডেস্ক: থাইল্যান্ডের এক স্কুলের মধ্যে হাড়হিম করা ঘটনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুলি চালিয়ে তিন জনকে খুন করল এক নাবালক পড়ুয়া। নিহত তিন জনের মধ্যে দুজন শিক্ষক এবং এক জন পড়ুয়া। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন ১০ জনেরও বেশি। শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী পড়ুয়ারও মৃত্যু হয়েছে। কিছু রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, বন্দুকধারীকে পুলিশ গুলি করেছে, আবার কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে সে আত্মহত্যা করেছে।
থাইল্যান্ডের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোলাপি সুওয়ানচুই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, যারা জখম হয়েছে সেই পড়ুয়ারা সরাসরি গুলিবিদ্ধ হননি, তারা দ্রুত পালানোর চেষ্টার সময় আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, যে স্কুলে শুক্রবার এই গুলি চালনার ঘটনা ঘটেছে সেটি ননথাবুরি প্রদেশের বাং ক্রুয়াই জেলার একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ননথাবুরি প্রদেশ পুলিশের প্রধান ডেচরাপি কংডি জানিয়েছেন, বন্দুকধারী নবম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। থাইল্যান্ডে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বয়স সাধারণত ১৪ বছরের কাছাকাছি হয়। ঘটনার পর ‘ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল’ এর বেশ কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে একজন শুয়ে আছেন। আরেকটি ছবিতে পড়ুয়াদের স্কুল থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ওই স্কুলে প্রায় ৩,১০০ ছাত্রছাত্রী ও ১৪৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে কী কারণে এই গুলি চালনার ঘটনা সে বিষয়ে পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে প্রায় এক কোটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। প্রতি সাত জন বাসিন্দা পিছু একটি করে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে সে দেশে। বন্দুক আইন কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এ ধরনের ঘটনায় খুব একটা ভাটা পড়েনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর পুলিশের কাছ থেকে বন্দুক চুরি করে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি সরকারি স্কুলে গুলি চালিয়েছিল।