ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে এবার রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনের কাছে সরাসরি জবাবদিহি চাইল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানাতে মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ, বিশেষ তদন্তে উঠে এসেছে যে ওই চার আধিকারিক ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে নাম সংযোজন ও অন্যান্য অসঙ্গতি ঘটিয়েছেন। বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে আসে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার সময়, যেখানে কিছু বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। কমিশনের প্রাথমিক তদন্তে প্রশাসনিক গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ইঙ্গিত মেলে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে আগেই রাজ্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত আধিকারিকদের সাময়িক বরখাস্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কার্যকর হয়নি বা আংশিকভাবে মানা হয়েছে। সেই কারণেই এবার মুখ্যসচিবের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, আদৌ কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তা কতদূর অগ্রসর হয়েছে।
কমিশনের চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া সমস্ত প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপের নথি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিভাগীয় তদন্তের অগ্রগতি, শোকজ নোটিস, অভিযুক্তদের জবাব, এফআইআর সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা না পড়লে কমিশন পরবর্তী কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্যের ছবিও স্পষ্ট। রাজ্য সরকারের একটি অংশের দাবি, অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করলে তা এত বড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পর্যায়ে পড়ে না। তবে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়লে কোনওরকম শৈথিল্য দেখানো যায় না। এই টানাপোড়েনের মাঝেই কমিশনের কড়া অবস্থান রাজ্য-কমিশন সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।
