ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে শুরু হয়ে গেছে এসআইআর। রাজ্যের শাসক দল বরাবর এস এই আরের বিরধিতা করে এসেছে। তাঁদের মতে এসআইআর এর মাধ্যমে বিজেপি বাংলার ভোটার তালিকাকে ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এর মধ্যেই রাজ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ নিয়োগের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে কমিশনের তরফে। এতদিন পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট হতে গেলে সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এখন থেকে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের যেকোনও ভোটারকে বিএলএ হিসেবে নিযুক্ত করা যাবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট বুথের ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আট দিন পর থেকে। নির্বাচন কমিশনের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিএলএ নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এতদিন অভিযোগ করছিল, পুরনো নিয়মের ফলে বহু বুথে পর্যাপ্ত এজেন্ট নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। কমিশন মনে করছে, এই পরিবর্তনের ফলে সেই সমস্যার সমাধান হবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজাও। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির চাপে এই নিয়ম বদল করেছে। দলের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং এর মাধ্যমে বুথ দখলের সুযোগ বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা মিললেও স্থানীয় বুথ পর্যায়ে দায়বদ্ধতা ও জনসংযোগের ঘনিষ্ঠতা কমে যেতে পারে। কারণ বুথভিত্তিক ভোটাররা এলাকার মানুষ ও সমস্যাগুলি ভালোভাবে জানতেন, যা বাইরে থেকে আসা কোনও এজেন্টের পক্ষে বোঝা কঠিন।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, প্রতিটি দলকে সমান সুযোগ দিতে গিয়েই এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশন আরও নির্দেশ দিয়েছে, নতুন নিয়ম মেনে দ্রুত বিএলএ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে। রাজ্যের সব জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে এ বিষয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
