ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ সেশন আদালত সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে নোটিশ জারি করেছে। অভিযোগ, ১৯৮০–৮১ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং সেই সময় তিনি ভারতের নাগরিকত্ব পান। কিন্তু সেই সময় তিনি দিল্লির নিউ দিল্লি সংসদীয় কেন্দ্রে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত ছিলেন বলে দাবি আবেদনকারীর। পরে ১৯৮২ সালে তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে এবং ১৯৮৩ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক মাস আগে দিল্লির এক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হলেও তা খারিজ করে দেওয়া হয়। আদালতের মত ছিল, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ বা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সাধারণ ফৌজদারি আদালতের বিষয় নয়, বরং তা নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। আদালত জানায়, অভিযোগে যে নথি জমা করা হয়েছে তা যথাযথ ও যাচাই-যোগ্য নয়।
এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনকারী পক্ষ উচ্চতর আদালতে রিভিশন পিটিশন দাখিল করলে সেশন আদালত তা গ্রহণ করে এবং নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই সোনিয়া গান্ধী ও দিল্লি পুলিশের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আদালত ট্রায়াল কোর্ট থেকে প্রাসঙ্গিক নথি তলব করেছে এবং আগামী শুনানির জন্য ৬ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, নাগরিকত্ব না থাকা অবস্থায় ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত হওয়া আইনত বেআইনি এবং এতে সরকারি নথি বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, নথি সংশোধনের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি বা তথ্য বিকৃতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার ঝড় উঠেছে। শাসকদল ও বিরোধী শিবির দুই পক্ষেই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী পক্ষের বক্তব্য, এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে আবেদনকারী পক্ষের মতে, ভোটার তালিকা একটি সংবিধানিক নথি, তাই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
