ওঙ্কার ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৯০ দিনের ‘পারস্পরিক শুল্ক’ স্থগিতাদেশ শেষ হচ্ছে বুধবার (৯ জুলাই)। তার আগেই সোমবার ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে চলেছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং মোটরগাড়ি ও তার যন্ত্রাংশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি মালয়েশিয়া, মায়ানমার, কাজাখাস্তান ও ভিয়েতনামকেও শুল্ক সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই খবর জানিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, এবার ব্রিক্স জোটের দেশগুলির উপরও ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে রাশিয়া, ব্রাজিল ও চিনের পাশাপাশি ভারতও নতুন করে শুল্কের খাঁড়ার মুখে পড়তে চলেছে।
বাণিজ্যচুক্তি সেরে রাখা চিন এই দফায় ছাড় পাচ্ছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে কী হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, বাণিজ্যচুক্তির খসড়া নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এখনও ঐকমত্য হয়নি। শেষ মুহূর্তের আলোচনাতেও সুরাহা না-হলে ১ অগস্ট থেকে ভারতের পণ্যের উপরও নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে। ওয়াশিংটনের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ‘‘অনেক দেশের সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে। আমরা আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত সবই ফলপ্রসূ হবে।’’ মার্কিন বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক স্পষ্ট করেছেন, স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন শুল্ক বুধবার থেকেই কার্যকর হবে না। ১ অগস্ট থেকে শুল্ক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্প শুল্ক হার এবং চুক্তির রূপরেখা এখনই চূড়ান্ত করে দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ২ এপ্রিল আমেরিকা প্রথম ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নীতি ঘোষণা করে। সেই তালিকায় চিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, ইজরায়েল সবাই ছিল। ভারতের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের উপর ৪৬ শতাংশ, জাপান ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫ শতাংশ, ব্রিটেন ১০ শতাংশ, থাইল্যান্ড ৩৬ শতাংশ এবং সুইৎজারল্যান্ডের উপর ৩১ শতাংশ শুল্ক ধার্য হয়। যদিও ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম ছাড়া বাকি পণ্যের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের জন্য সেই শুল্ক স্থগিত রাখা হয়েছিল।
মেয়াদ শেষের মুখে দাঁড়িয়ে ফের শুল্কের খাঁড়া নেমে আসছে, অথচ অনেক দেশের সঙ্গেই এখনও চুক্তি চূড়ান্ত নয়। ইতিমধ্যেই ১২টি দেশকে শুল্কের চিঠি পাঠানো হয়েছে, এবং শীঘ্রই আরও তিনটি দেশের কাছে তা পৌঁছবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে হোয়াইট হাউস থেকে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে বলেই মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
