ওঙ্কার স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও এবার কি খেলতে পারবে আর্জেন্টিনা? তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফার নিয়মানুসারে মাঠের মধ্যে কোনোরকম রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া যায় না। এ বারের বিশ্বকাপের আগে স্বাধীনতাপূর্ব ইরানের পতাকা ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আইএফএবি ও ফিফা। ফকল্যান্ড যুদ্ধও দু’দেশের রাজনৈতিক লড়াই। ফলে সেই ব্যানার ব্যবহার করে ফিফার নিয়ম ভেঙেছেন মেসিরা। নিয়মে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “কোনও ফুটবলার বা দল এই নিয়ম ভাঙলে প্রতিযোগিতার আয়োজক, আইএফএবি বা ফিফা সংশ্লিষ্ট ফুটবলার বা দলকে শাস্তি দিতে পারে।” তবে এ ক্ষেত্রে ফিফার হাতে সময় কম। মাত্র তিন দিন। রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনাল। তার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে ফিফাকে।
আগামী দিনে কী হতে পারে?
তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের ধারণা, এ ক্ষেত্রে বেঁচে যেতে পারে আর্জেন্টিনা। যেহেতু তারা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে, তাই তাদের নির্বাসিত করলে প্রতিযোগিতার উপর প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি মেসি বড় তারকা। এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। মেসি ফাইনাল খেলতে না পারলে সারা বিশ্বের কাছে বিশ্বকাপ খেলার মান কমে যাবে তার পাশাপাশি বিশ্বকাপ খেলা থেকে বিরতি দিতে চায় না এই ফুটবল নিয়ামক সংস্থা। তাই এ ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে সতর্ক করে ছেড়ে দিতে পারে ফিফা। খুব বেশি হলে হয়তো তাদের জরিমানা করা হতে পারে।
আদতে কী ঘটেছিল?
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল চলাকালীন মাঠের মধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবলার জিয়োভানি লো সেলসোর হাতে একটি ব্যানার দেখা যায়। তাতে লেখা, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ স্প্যানিশে এই কথার বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপকে মালভিনাস বলে ডাকেন আর্জেন্টিনার বাসিন্দারা। অর্থাৎ, ম্যাচের মধ্যে তাঁরা স্লোগান তোলেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই।
খেলা শেষে নিকোলাস ওটামেন্ডি ও লো সেলসো সেই ব্যানার তুলে ধরেন। আর্জেন্টিনার বাকি ফুটবলারেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতেও ছিল একই ব্যানার। অর্থাৎ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি আরও এক বার উস্কে দেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেই ব্যানার হাতেই উল্লাস করেন তাঁরা। আর্জেন্টিনা থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের মধ্যে থাকা দ্বীপ ফকল্যান্ড। এই দ্বীপের দখল নেওয়া ঘিরে বার বার বিবাদে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৮২ সালের ২ জুলাই ইংল্যান্ডের অধিকারে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপ আক্রমণ করে আর্জেন্টিনা। ৭৪ দিন ধরে চলেছিল সেই যুদ্ধ। শেষে আত্মসমর্পণ করে আর্জেন্টিনা। সেই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ ও ইংল্যান্ডের ২৫৫ সেনা প্রাণ হারান। নিহত হয়েছিলেন ফকল্যান্ড দ্বীপের তিন বাসিন্দা। সেই ঘটনা আরও এক বার তুলে ধরে সমস্যায় মেসিরা।