স্পোর্টস ডেস্ক : আইপিএলের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি গত তিন মরসুমে প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর, দীর্ঘদিনের প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চেন্নাই সুপার কিং। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফ্লেমিং ২০০৮ সালে আইপিএলের উদ্বোধনী মরসুমে খেলোয়াড় হিসেবে দলে যোগ দিয়েছিলেন এবং ২০০৯ সালে প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্তটি সিএসকে এর জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেও, ফ্লেমিংয়ের ছেড়ে যাওয়া শূন্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের বর্তমান কোচ হেমাং বাদানি, যিনি ভারতের হয়ে ৪০টি ওয়ানডে ও চারটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন।
এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএসকে-র শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমানে ডালাসে রয়েছেন। সেখানে তাঁরা গত কয়েক মরসুমের ফলাফল পর্যালোচনা করছেন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এও জানা গিয়েছে যে, সিএসকে পুরো কোচিং স্টাফের ভবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এন শ্রীনিবাসনের কন্যা এবং চেন্নাই সুপার কিংস ক্রিকেট লিমিটেড-এর পূর্ণকালীন পরিচালক রূপা গুরুনাথ ফ্র্যাঞ্চাইজির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর তদারকি করছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফ্লেমিং বলেন, ‘‘খেলাধুলার জগতে ১৮ বছর মানেই এক দীর্ঘ সময়; আমি এখান থেকে কেবল কৃতজ্ঞতা নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে কাটানো সময়টুকু আমার কোচিং ক্যারিয়ারের এক বিশেষ প্রাপ্তি। আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত।’’তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আমরা সবাই মিলে অবিস্মরণীয় সব জয় উদযাপন করেছি, কঠিন মুহূর্তগুলো কাটিয়ে উঠেছি এবং এমন সব স্মৃতি তৈরি করেছি যা চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে। সিএসকে সবসময়ই আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি থাকবে এবং আগামী বছরগুলোতেও আমি দলের জন্য শুভকামনা জানিয়ে যাব।’’
সিএসকে জানিয়েছে যে, ফ্লেমিং এবং দলের ম্যানেজমেন্টের মধ্যে ‘‘ধারাবাহিক খোলামেলা ও সৎ আলোচনার’’ পর ‘‘শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার’’ সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রধান কোচ হওয়ার পর, ফ্লেমিং দলকে পাঁচটি শিরোপা জয়ে সহায়তা করেন এবং তৎকালীন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে এক আইকনিক জুটি গড়ে তোলেন।
দলটি দু’টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টও জিতেছিল। এছাড়া তারা রেকর্ড ১২ বার আইপিএলের প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে এবং ১০ বার ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তবে গত তিন বছর ধরে দলটির পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক অবনতি ঘটছে এবং তারা প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে; সমালোচকরা প্রায়শই এর কারণ হিসেবে বয়সের ভারে ন্যুব্জ খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও ‘ধোনি-নির্ভরতা’র (ধোনি ফ্যাক্টর) দিকে আঙুল তুলেছেন।