স্পোর্টস ডেস্ক: আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটে কোনও রানই আর নিরাপদ নয়! শনিবার আইপিএলের মঞ্চে তারই জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল। দিল্লি ক্যাপিটালসের তোলা ২৬৪ রানের বিশাল স্কোরও রক্ষা পেল না। শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে পাঞ্জাব কিংস সেই রান তাড়া করে গড়ে ফেলল নতুন ইতিহাস, যা আইপিএলের সর্বোচ্চ রান চেজ।পাঞ্জাব কিংস জিতল ৬ উইকেটে। এই জয়ে ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে প্রীতি জিন্টার দল।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করতে দেখা যায় কেএল রাহুলকে। মাত্র ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যা আইপিএলে কোনও ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। ১৬টি চার ও ৯টি ছক্কার ঝড়ে রাহুল কার্যত একাই ম্যাচের রং বদলে দেন। তাঁর সঙ্গেই সমানতালে লড়াই চালান নীতীশ রানা, ৪৪ বলে ৯১ রানের ইনিংসে বড় অবদান রাখেন তিনি। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২৬৪ রান তোলে দিল্লি।
তবে জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণে যায় পাঞ্জাব। ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য (১৭ বলে ৪৩) ও প্রভসিমরন সিং (২২ বলে ৭৬) পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। প্রথম ছয় ওভারে ১০০-র বেশি রান তুলে চাপ কমিয়ে দেন তাঁরা। এরপর মঞ্চে আসেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর ৩৬ বলে ৭১ রানের ইনিংসই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পাঞ্জাবের হাতে। মাঝপথে তাঁর দুটি সহজ ক্যাচ ফসকানো দিল্লির পক্ষে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। নেহাল ওয়াধেরা ও শশাঙ্ক সিংও ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত ৭ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে পাঞ্জাব। এর আগেও ২০২৪ সালে ২৬২ রান তাড়া করে রেকর্ড গড়েছিল তারা, এবার সেই নজিরও ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখল শ্রেয়সের দল। সব মিলিয়ে রাহুলের ‘অতিমানবীয়’ সেঞ্চুরিও ঢেকে গেল পাঞ্জাবের দুরন্ত রান তাড়া করার সামনে, আইপিএলের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচের সাক্ষী রইল দিল্লি।শ্রেয়স আইয়ার বললেন,’আমরা দেখছিলাম, আগের ম্যাচগুলোয় ২ ওভার বাকি থাকতে ২২০-২২৫ রানের মতো তুলতে পেরেছি। দিল্লির বিরুদ্ধে একই রকম মানসিকতা নিয়ে খেলতে নেমেছিলাম। লক্ষ্য ছিল, পাওয়ার প্লেতে যত বেশি সম্ভব রান তুলে নেওয়া। আমাদের ওপেনারেরা প্রথম বল থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে পরিস্থিতি সামলে দেয়। বাকিরা শুধু ওদের ভাল শুরুটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।সাত ম্যাচ খেলে ১৩ পয়েন্ট শ্রেয়সদের। পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর থেকে ৩ পয়েন্টে এগিয়ে তাঁরা। আর একটি ম্যাচ জিতলে পঞ্জাবের প্লেঅফ খেলা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। তা-ও শ্রেয়স বলছেন, তাঁর দলের ফিল্ডিংয়ে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তবে আপাতত বিশ্রাম। তিনি বলেছেন,এই জয়ের পর আমরা যতটা সম্ভব মজা করব। যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেব। কারণ আমাদের টানা তিন দিন প্রচন্ড গরমের মধ্যে অনুশীলন করতে হয়েছে। ম্যাচ খেলতে হয়েছে। প্রত্যেকের খুব পরিশ্রম হয়েছে। তাই বুঝতেই পারছেন, একটু বিশ্রাম প্রয়োজন। পরের ম্যাচের আগে আমাদের আবার শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। পরিকল্পনাও করতে হবে। কী করে আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামতে পারি, সেটা দেখতে হবে। পরের ম্যাচগুলোর প্রতিপক্ষদের নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।’’ উল্লেখ্য, আগামী ২৮ এপ্রিল শ্রেয়সদের পরের প্রতিপক্ষ রাজস্থান রয়্যালস।