ওঙ্কার ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে ৩৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল স্কটল্যান্ড। গ্রুপ সি-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল তারা। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফিরে এসে প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নেওয়ায় স্কটিশ শিবিরে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, হারলেও লড়াকু ফুটবল খেলে প্রশংসা কুড়িয়েছে হাইতি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথম কয়েক মিনিটে বলের দখল নিয়ে লড়াই চললেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্কটল্যান্ড। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তুলে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। হাইতির রক্ষণভাগ শুরুতে দৃঢ়তা দেখালেও ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আসে ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্ত। স্কটল্যান্ডের আক্রমণ থেকে চে অ্যাডামস গোলের উদ্দেশ্যে শট নেন। হাইতির গোলরক্ষক প্রথমবার সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়েন জন ম্যাকগিন। তাঁর নেওয়া শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড।
গোল খাওয়ার পর হাইতি ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা শুরু করে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে এবং দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে তারা একাধিক আক্রমণ গড়ে তোলে। উইং ব্যবহার করে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলে। তবে স্কটিশ ডিফেন্ডাররা সংগঠিত ফুটবল খেলে প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হন।
দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ডও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু শেষ পাস এবং ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই সুযোগগুলি কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফল অনিশ্চিত ছিল। শেষ দিকে হাইতির একটি বিপজ্জনক আক্রমণ স্কটিশ সমর্থকদের উদ্বেগে ফেললেও গোলের দেখা মেলেনি।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও লিখল স্কটল্যান্ড। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে জয় পেল তারা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে জয় পাওয়ায় দলের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ফলাফল হতাশাজনক হলেও হাইতির পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ভবিষ্যতের ম্যাচগুলিতে তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
গ্রুপ সি-র লড়াই এখন আরও জমে উঠেছে। প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে স্কটল্যান্ড নক-আউট পর্বে ওঠার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করল। তবে সামনে মরক্কো এবং ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকায় তাদের আসল পরীক্ষা এখনও বাকি। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও পথ নেই হাইতির সামনে।