ওঙ্কার ডেস্ক: দুর্নীতি গ্রস্ত তৃণমূল নেতা হলেই খেতে হচ্ছে ডিমভাজা। এবার ঘটলো উলট পুরাণ। খেতে দেওয়া হল ডিম ভাজা। অভিনব এই প্রতিবাদ কর্মসূচীটি ঘটেছে, দুর্গাপুরে। জমির পাট্টা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের বিরুদ্ধে।অভিযোগ, দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলার শিপুল সাহা ও তাঁর অনুগামীরা মহানন্দ কলোনি, বীরভানপুর-সহ একাধিক এলাকা থেকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জমির পাট্টা করে দেওয়ার নাম করে টাকা নেন। গতকাল, শনিবার রাতে মহানন্দ কলোনির এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ব্যাগভর্তি পাট্টার ফর্ম উদ্ধার হয়! সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষজন। পাট্টার ফর্ম ও ঝাঁটা হাতে নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, পাট্টার নামে নেওয়া টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও সরব হন। পাট্টার ফর্ম ও ঝাঁটা হাতে নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এই বিষয়ে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁর এক অনুগামী, স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুকুমার চক্রবর্তীকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর উপর ডিম ছোড়া, হেনস্থার ঘটনা ঘটেনি। বরং তাঁকে চেয়ারে বসানো হয়। এরপর কার্যত ‘জামাই আদর’ করে ডিমের অমলেট খাওয়ানো হয়! পাট্টার নামে তোলা টাকা কোথায়, কত টাকা তোলা হয়েছে? সেইসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপক দাস জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকার পূর্ণ হিসেব দিতে হবে এবং পাট্টা না পাওয়ার কারণও স্পষ্ট করতে হবে। সুকুমার চক্রবর্তীর দাবি, টাকা কোথায় গেল এবং কেন মানুষ পাট্টা পেল না? তার উত্তর একমাত্র বিদায়ী কাউন্সিলার শিপুল সাহাই দিতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, পালাবাদলের পর কার্যত প্রত্যেক তৃণমূল নেতাকে ধরে ধরে খাওয়ানো হচ্ছে ডিম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য তার ব্যাতিক্রম হচ্ছে। যেমন তৃণমূল নেতা সব্যসাচীকে ধরে দেওয়া হয়েছিল ডিম থেরাপি ও গোবর। যদিও ঘটনার সুত্রপাত প্রথম ডিম খেয়েছিলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক। এরপর একের পর এক চুনোপুঁটি থেকে শুরু করে বড় বড় নেতা সবাইকে খেতে হয়েছে ডিম।