ওঙ্কার ডেস্ক: বিশ্বকাপ জ্বরে ভুগছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু বিশ্বকাপে মরিসিও পোচেত্তিনোর আমেরিকা অন্য পথে হাঁটছে। তুলে ধরেছে বিকল্প প্রস্থান। কাগজে-কলমে দলটি ৪-২-৩-১ ছকে খেললেও, বল পায়ে আসামাত্র সেই বিন্যাস বদলে যাচ্ছে। অবস্থান পাল্টাচ্ছেন ফুটবলাররা। মাঝমাঠে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ‘ফ্লুইড’ বা চলমান কাঠামো। যেখানে নির্দিষ্ট জায়গার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ফাঁকা স্পেস খুঁজে নেওয়া। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ৪-১ জয়ের ম্যাচে সেই পরিকল্পনা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। বিশ্বকাপের পয়লা ম্যাচে ছ’টি শট লক্ষ্যে রেখে চার গোল করেছে আমেরিকা। অথচ তাদের প্রত্যাশিত গোলের হার বা এক্সজি ছিল মাত্র ১.৩৪। ক্রিস রিচার্ডস ও টিম রিমকে নিয়ে তৈরি হয় তিনজনের রক্ষণভাগ। তাঁদের সামনে একক মিডফিল্ডার টাইলার অ্যাডামস। বাঁ-দিকে এন্টোনি রবিনসনও অনেকটা উপরে উঠে যান। ডেস্ট চওড়া এলাকায়। সবার সামনে বালোগুন। মিডফিল্ডে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, মালিক টিলম্যান, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও টাইলার অ্যাডামস—এই চারজনের কোনও নির্দিষ্ট জায়গা নেই। কখনও তাঁরা একই দিকে চলে আসছেন, কখনও একে অন্যের পজিশন বদল করছেন। ডানদিকের হাফ-স্পেস ফাঁকা রেখে ম্যাককেনি সরে যাচ্ছেন বাঁ-দিকে। পুলিসিচ ভিতরে ঢুকছেন। আবার কখনও টাচলাইনে চলে গেলে মাঝমাঠে জায়গা নিচ্ছেন রবিনসন। এর ফলে প্রতিপক্ষের পক্ষে মার্কিং করা কঠিন হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, শীর্ষ ১০০ জনের মধ্যে স্পেনের ১৪ জন, ফ্রান্সের ১০ জন, ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের ৯ জন করে এবং আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের ৮ জন করে প্রতিনিধি রয়েছেন।
ঐতিহাসিক তথ্য মার্কিন দলের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে রয়েছে। বিশ্বকাপে তারা তাদের ৮টি নকআউট ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১টিতে জিতেছে। সেই একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০০২ বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোকে পরাজিত করার পর কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যায়।
পরবর্তীকালে, মার্কিন দল ২০১০, ২০১৪ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়ে, ২০০৬ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায় এবং ২০১৮ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। তা সত্ত্বেও, পচেত্তিনো বিশ্বাসের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর খেলোয়াড়দের বলেছিলেন: “আমরা কেন পারব না? আমাদের সত্যিই বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা এটা করতে পারি। আমাদের স্বপ্ন দেখার সাহস করতে হবে।”
অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক জোর দিয়ে বলেছেন যে, দলটি শুধু জনসাধারণকে প্রভাবিত করার জন্যই খেলছে না, বরং দলের সম্মিলিত বিশ্বাসের খাতিরেও খেলছে।