ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে। আইসিসি মহিলা একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ভারত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাপ উঁচিয়ে ধরল হরমনপ্রীত কৌরের দল।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ইনিংসের গতি বাড়িয়ে দেন তরুণী ওপেনার শেফালি ভার্মা। মাত্র ৭৮ বলে ৮৭ রানের দাপুটে ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল ১২টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছয়। অপর প্রান্তে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর খেলেন দায়িত্বশীল ৬৩ রানের ইনিংস। স্মৃতি মান্ধানাও ৪৫ রানের অবদান রাখেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ভারত থামে ২৯৮/৭ রানে। শেষের দিকে রিচা ঘোষ ও দীপ্তি শর্মার দ্রুত রান সংগ্রহ দলকে পৌঁছে দেয় শক্ত অবস্থানে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শুরু থেকেই চাপে পড়ে। ভারতের বোলারদের নিখুঁত লাইন ও লেংথে টপ অর্ডার ভেঙে যায় মুহূর্তে। ওপেনার লরার ৪৯ রানের লড়াই সত্ত্বেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফ্রিকা। দীপ্তি শর্মা একাই তুলে নেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নিজের স্পিনে। রাজেশ্বরী গায়কোয়াড় ও রেণুকা সিংও তুলে নেন ২টি করে উইকেট। ম্যাচে ভারতের ফিল্ডিংও ছিল অনবদ্য। দুটি সরাসরি থ্রো এবং চমৎকার ক্যাচে ফিল্ডারদের পারফরম্যান্স দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে তোলে। শেষ পর্যন্ত ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা, আর তাতেই শুরু হয় ভারতীয় দলের উল্লাস। স্টেডিয়ামের গ্যালারি গর্জে ওঠে ‘চক দে ইন্ডিয়া’ স্লোগানে।
ম্যাচ-পরবর্তী অনুষ্ঠানে ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত বলেন, “এটা শুধু একটা জয় নয়, বহু বছরের পরিশ্রম ও বিশ্বাসের ফল। মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য এ এক নতুন সূচনা।” সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় গ্যালার্যস থেকে ভেসে যাসা উছ্বাসে আপ্লুত হয়ে ক্যাপ্টেন বলেন, “দর্শকদের অনেক ধন্যবাদ, তাঁরা পুরো ম্যাচে দলকে সমানভাবে সমর্থন করে গেছেন, যার কারণে আমরা আরও উৎসাহিত করেছে”।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় মহিলা দল শুধুমাত্র একটি ট্রফি জেতেনি, বরং বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে তাদের দৃঢ়তা, একতা ও আত্মবিশ্বাসের শক্তি। নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এই সাফল্য। অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে আগামী প্রজন্মের জন্য।
