ওঙ্কার ডেস্ক : অতিরিক্ত লাগেজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক সেনা অফিসারের সঙ্গে স্পাইসজেটের চার কর্মীর ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধলো শ্রীনগর বিমানবন্দরে। ওই সেনা অফিসারের হিংসাত্মক আচরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। কোনো জনসাধারণ এলাকায় স্মরণাতীতকালে কোনো সেনা অফিসারকে এতটা মাথা গরম করতে দেখা যায়নি বলে জানা গেছে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে। ঘটনাটি এতটাই মারাত্মক আকার নেয় যে, ওই সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিমানসংস্থাটি জানিয়েছে, সেনা অফিসারের মারমুখী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন স্পাইসজেটের চার কর্মী। তাঁদের মধ্যে একজনের মেরুদণ্ডের ফ্র্যাকচারও হয়েছে।

বিমান সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত চার্জে ৭ কেজির বেশি কেবিন লাগেজ নেওয়া যাবে না বলে জানাতেই ওই সেনা অফিসার সংস্থার কর্মীদের ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এই মারধোরে সংস্থার এক কর্মী মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে, তবুও ওই সেনা অফিসার তাঁকে মারতে থাকেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ কর্মীদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সেনাবাহিনীর কাছে খবরটি পৌঁছুলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছ। স্পাইসজেট জানিয়েছে, এই ঘটনাটি ২৬ জুলাই দিল্লিগামী এক যাত্রীর সঙ্গে ঘটেছিল। ওই সেনা অফিসার ১৬ কেজি ওজনের দুটি কেবিন ব্যাগেজ নিয়ে যাচ্ছিল যা অনুমোদিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। অতিরিক্ত লাগেজের জন্য তাকে অর্থ দিতে হবে বলে জানানো হলেও, তিনি তা কান দেননি। সিকিউরিটি প্রোটোকল না মেনে বোর্ডিং প্রক্রিয়া শেষ না করেই জোর করে অ্যারোব্রিজে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় একজন সিআইএসএফ অফিসার তাঁকে গেটে ফিরিয়ে নিয়ে যান। তখনই তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং স্পাইসজেটের গ্রাউন্ড স্টাফের চার সদস্যকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন”।

অনলাইনে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে ধরা পড়েছে ওই ঘটার ছবি। দেখা গেছে, ওই সেনা অফিসার স্পাইসজেট কর্মীদের উপর কিছু একটা হাতে নিয়ে চড়াও হচ্ছেন এবং বারবার আঘাত করছেন যতক্ষণ না সিআইএসএফ কর্মীরা তাঁকে ধরে নিয়ে যান। বিমান সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, “স্পাইসজেটের একজন কর্মচারী অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলেও ওই সেনা অফিসার জ্ঞান হারানো কর্মচারীকে লাথি মারতে থাকেন। অজ্ঞান হয়ে পড়া সহকর্মীকে সাহায্য করার জন্য এক সহকর্মী এগিয়ে এলে তারয় চোয়ালে জোরে লাথি লাগে, যার ফলে ওই কর্মীর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে। আহত কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গুরুতর আঘাতের জন্য তাদের চিকিৎসা চলছে”।
স্পাইসজেট স্থানীয় পুলিশের কাছে একটি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ। ওই যাত্রীকে তাদের নো ফ্লাই লিস্টে রাখার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বিমান সংস্থাটি। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হয়েছে। স্পাইসজেট জানিয়েছে, এই বিষয়ে যথোপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিভিল এভিয়েশন ডিরেক্টরেট জেনারেল ) নিয়ম অনুসারে, এই ঘটনাটি যদি লেভেল- ৩-এ পড়ে তাহলে ওই যাত্রীর ৬ মাস পর্যন্ত বিমানে যাতায়াত নিষিদ্ধ হবে। যদি লেভেল- ৩ হয় তাহলে দু বছর কিংবা তারও বেশী সময় বিমানে যাতায়াত নিষিদ্ধ হবে।
