ওঙ্কার ডেস্ক: পুনরায় উত্তাল হতে চলেছে নবান্ন চত্বর। সোমবার ফের নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আন্দোলনের রুটম্যাপ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে রবিবার থেকেই কোমর বেঁধেছে পুলিশ-প্রশাসনও। হাওড়া ময়দান থেকে নবান্ন পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে লোহার ব্যারিকেড। কোথাও আবার ফোরশোর রোডে রাস্তা কেটে সিমেন্টের ঢালাই করে তৈরি হচ্ছে স্থায়ী ব্যারিকেড। নবান্নের চারপাশে মুড়িয়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। অন্যদিকে পিছু হটতে নারাজ যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষীকারা। আন্দোলনকারীদের দাবি, যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশ করতে হবে, রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে ফেরাতে হবে কেড়ে নেওয়া চাকরি। একাধিকবার রাজপথে নেমে ও ধর্না-মিছিল করেও আশ্বস্তি মেলেনি তাই আন্দোলন থামানোর কোনো প্রশ্নই নেই বলে সাফ জানিয়েছেন অভিযানকারিরা। সূত্রের খবর, সোমবার সকালে হাওড়া ময়দানে জমায়েত হয়ে পদযাত্রা শুরু করবেন তাঁরা, গন্তব্য নবান্ন।
এদিকে প্রশাসনের তরফে প্রস্তুতিও তুঙ্গে। হাওড়া সিটি পুলিশ ও লালবাজারের নজরে রাখা হচ্ছে নবান্ন সংলগ্ন এলাকা। বসানো হয়েছে একাধিক সিসিটিভি, নজরদারিতে রয়েছে ড্রোনও। পরিস্থিতি সামলাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান, র্যা ফ, কমব্যাট ফোর্স বিভিন্ন জেলার আইপিএস অধিকারক দের। পুলিশের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনওভাবেই যেন আন্দোলনকারীরা নবান্নের মূল চত্বরে ঢুকতে না পারেন। ফলে সোমবার সকাল থেকেই ফোরশোর রোডে ব্যারিকেডের কারণে তীব্র যানজটের ছবি। সিমেন্টের ঢালাই করা ব্যারিকেড দ্রুত সরানোর কোনও উপায়ই রাখেনি প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় নবান্ন অভিযান। গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে পথে নামলেও টানা বৃষ্টিতে আন্দোলনের তেজ কিছুটা কমেছিল। তবে এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত এবং দৃঢ প্রতিজ্ঞ আন্দোলনকারীরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমরা যোগ্য, আদালত আমাদের পাশে আছে। সরকার আর পাশ কাটাতে পারবে না।’
