ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের স্কুল শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফের বড়সড় অনিয়মের চিহ্ন মিলেছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে, চলতি নিয়োগপর্বে নথি যাচাইয়ের সময় মোট ২৬৯ জন প্রার্থীকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এঁদের বেশিরভাগই ২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে কমিশনের সন্দেহ। তবু তারা নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। নথি যাচাইয়ের সময় তাঁদের পুরনো তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়ায় আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩৫টি বিষয়ের মধ্যে ৩১টির নথি যাচাই ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বাকি বিষয়গুলির কাজও চলছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা স্পষ্ট করেছেন, আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নথি পরীক্ষা চলবে এবং এই সময়ের মধ্যে আরও কোনও দাগি বা অযোগ্য প্রার্থীর সন্ধান মিললে তাঁদেরও অবিলম্বে বাদ দেওয়া হবে। ফলে চূড়ান্ত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এত সংখ্যক দাগি প্রার্থী শনাক্ত হওয়া নিয়োগ-পদ্ধতির নিরাপত্তা ও সতর্কতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বহু প্রার্থী জানতে চাইছেন, যদি পুরনো অনিয়মে যুক্ত ব্যক্তিরা সহজেই পুনরায় পরীক্ষায় বসতে পারেন, তাহলে পুরো ব্যবস্থার স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত? কেন প্রাথমিক স্তরে তাঁদের আটকানো হয়নি, সেই প্রশ্নও উঠছে।
এসএসসি এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বর্তমান প্রক্রিয়া পূর্বের তুলনায় কঠোর নথি যাচাই এবং বিশদ তথ্য-মেলানোর ওপর নির্ভর করছে। পুরনো মামলার তথ্য, আদালতের নির্দেশ, এবং কমিশনের নিজস্ব ডাটাবেস মিলিয়েই যাচাই চলছে। কমিশন আরও জানিয়েছে, কোনওভাবেই পুরনো অনিয়ম মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না, এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
নিযুক্তি দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে জনআস্থা সংকট তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ২৬৯ জন অযোগ্য প্রার্থী শনাক্ত হওয়ার ঘটনাকে কমিশন স্বচ্ছতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে সমালোচকদের মতে, কড়াকড়ি আরও আগেই করা দরকার ছিল। রাজ্যের বহু চাকরিপ্রার্থী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তাঁদের মধ্যে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি আবারো ধীর হয়ে পড়বে কি না বা পুর্ববর্তী ঘটনার আবার পুনরাবৃত্তি হবে কিনা।
